কৃষি, প্রকৃতি ও পর্যটনের ব্যতিক্রমী ঠিকানা

বরেন্দ্রের মাটির ঘ্রাণে নতুন স্বপ্ন কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৭ এএম আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম ৩ বার পঠিত
বরেন্দ্রের মাটির ঘ্রাণে নতুন স্বপ্ন কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট

বরেন্দ্রের মাটির ঘ্রাণে নতুন স্বপ্ন কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট

দৈনিক রাজশাহী
১৪ আগ ২০২৬

রাজশাহী শহরের কোলাহল পেরিয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে তানোর উপজেলা সদর। সেখান থেকে আরও প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে মুন্ডুমালা পৌর এলাকার চুনিয়াপাড়া গ্রাম। সেখানে বরেন্দ্রভূমির উঁচু-নিচু জমি, লালচে মাটি আর গ্রামীণ প্রকৃতির নিজস্ব সৌন্দর্যের মাঝেই গড়ে উঠছে নতুন এক সম্ভাবনার ঠিকানা ‘কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট’। শতাধিক বিঘা উঁচু-নিচু জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এই কৃষি ও পর্যটনভিত্তিক উদ্যোগ। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে থাকবে প্রকৃতি, কৃষি, গ্রামীণ জীবন ও অবকাশ যাপনের সমন্বিত আয়োজন। 

বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রকল্পের উদ্বোধন ও বিশেষ অতিথি সম্মেলনে কুটুমবাড়ির ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। প্রকল্পের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম তার ভাবনায় কুটুমবাড়ি প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপস্থাপক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডি.এম. সাকলায়েন এর সঞ্চালনায় বলেন, শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি গড়ে তোলা হবে  গ্রামীণ জীবনের এক আনন্দময় গন্তব্য হিসেবে। যা হবে সকল মানুষের এক মেলবন্ধনের জায়গা। কুটুম বাড়ি এগ্রো রিসোর্টের মূল ডিজাইনার মোঃ মামুন সারোয়ার বলেন, আমি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এগ্রো রিসোর্ট এর ডিজাইন করেছি  যা অত্যন্ত আকর্ষনীয় ও মনোমুগ্ধকর হবে। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সুধিজন উপস্থিত ছিলেন। 

কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিঠুন কুমার বলেন, কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্টের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হতে যাচ্ছে মাটির ঘর। আধুনিক নগরজীবনের কংক্রিটের দেয়াল থেকে বেরিয়ে এখানে এসে দর্শনার্থীরা পাবেন মাটির ঘরের আপন আবহ।

মাটির গন্ধ, খোলা বাতাস, গ্রামের পরিবেশ আর চারপাশের প্রকৃতি—সব মিলিয়ে তৈরি হবে শেকড়ের কাছে ফেরার এক অনুভূতি। মাটির ঘরের বারান্দায় বসে দূরের মাঠ দেখা কিংবা নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা হতে পারে এই উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। 

কৃষি ও পর্যটনের মেলবন্ধন
‘এগ্রো রিসোর্ট’ নামের মধ্যেই রয়েছে উদ্যোগটির মূল ভাবনা। কৃষিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে এখানে। বিস্তৃত পরিসরে কৃষি ও প্রকৃতিকে ঘিরে নানা আয়োজনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যটনসুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষ থেকে শুরু করে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু—সবার জন্যই এখানে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরির সুযোগ রয়েছে। 

বরেন্দ্রের আলাদা সৌন্দর্য বাংলার অন্য অঞ্চলের তুলনায় বরেন্দ্রভূমির প্রকৃতি স্বতন্ত্র। উঁচু-নিচু ভূমি, লালচে মাটি এবং ঋতুভেদে বদলে যাওয়া প্রকৃতি এ অঞ্চলকে দিয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য।

কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট সেই বৈশিষ্ট্যকেই পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠলে এটি শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, বরেন্দ্রভূমির প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক জীবনকে কাছ থেকে দেখারও একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। 

সম্ভাবনার নতুন দরজা : রাজশাহী শহর থেকে খুব বেশি দূরে নয়, অথচ নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে অনেকটাই আলাদা—চুনিয়াপাড়ার এই অবস্থান কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট অন্যতম বড় সুবিধা। উদ্যোগটি পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বরেন্দ্রভূমির মাটির গন্ধ, গ্রামের স্বাভাবিক জীবন আর প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য—এই তিনের সমন্বয়ে চুনিয়াপাড়ায় তৈরি হচ্ছে নতুন এক গল্প।

শহরের ব্যস্ততায় ক্লান্ত মানুষ হয়তো একদিন ছুটে আসবেন এখানে। মাটির ঘরের বারান্দায় বসে এক কাপ চা হাতে তাকিয়ে থাকবেন দূরের মাঠের দিকে। তখন কুটুমবাড়ি শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র থাকবে না—হয়ে উঠতে পারে মাটির কাছে, শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এক ঠিকানা। 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।