রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজিএস ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে

বাং লাদেশ–ফ্রান্সের শিক্ষা ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৩ পিএম আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম ২৪ বার পঠিত
বাং লাদেশ–ফ্রান্সের শিক্ষা ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান

বাং লাদেশ–ফ্রান্সের শিক্ষা ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান

দৈনিক রাজশাহী
২৯ জুল ২০২৬

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ফ্রিডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় “মিট দ্য অ্যাম্বাসাডর” সিরিজের দ্বিতীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ,শিক্ষার্থী,  ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক, একাডেমিক সহযোগিতা, তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ-এর প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি, বক্তা ও আলোচকদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্স রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে, ফ্রিডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং বাংলাদেশ-এর রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফেলিক্স গ্রেডে্স, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ,এবং ফ্রিডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার সাধন কুমার দাস প্রমুখ। 

ড. ফেলিক্স গ্রেডে্স  অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. ফেলিক্স গের্ডেস বলেন, ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং জার্মানির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের নামে নামকরণ করা ফ্রিডরিশ এবার্ট ফাউন্ডেশন গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও জনপরিসরে আলোচনা আয়োজনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে কাজ করে। শ্রমিক অধিকার ও নাগরিক শিক্ষার ওপরও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্ব দেয়। বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এফইএস আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করছে এবং বাংলাদেশে শ্রম ইস্যু, ন্যায্য অর্থনৈতিক নীতি ও অন্যান্য সহযোগিতামূলক ক্ষেত্রে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সিজিএসের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ কর্মসূচির লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা তৈরি এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি একটি প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ আলোচনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাত, অভিবাসন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, অপতথ্যের বিস্তার এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন বিশ্বকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী থাকতে, পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির বাইরে গিয়ে বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করতে উৎসাহিত করেন। একই সঙ্গে বিশ্লেষণী দক্ষতা, ডিজিটাল সক্ষমতা ও আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বাণিজ্য, জলবায়ু কার্যক্রম ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সফর দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখবে।

সিজিএস প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান তার বক্তব্যে প্রথমবারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে রাজশাহীর শিক্ষা, সংস্কৃতি, রেশম ও আমের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে দীর্ঘদিনের জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ভবন বা অবকাঠামোর সমষ্টি নয়, বরং এটি এমন একটি জায়গা যেখানে বিভিন্ন ধারণার মিলন ঘটে এবং মানুষ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হয়ে তা নিয়ে ভাবতে শেখে। তিনি বলেন, কূটনীতি মূলত মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগের বিষয়। বাণিজ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, জলবায়ু কার্যক্রম, উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব বাস্তবতায় এ ধরনের আলোচনা অত্যন্ত সময়োপযোগী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত হিজ এক্সেলেন্সি জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে তার বক্তব্যে কূটনীতি, নীতিনির্ধারণ ও জনজীবনে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ফ্রান্সের নারীবাদী পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নারীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং লিঙ্গ, পরিচয় বা সামাজিক পটভূমি নির্বিশেষে প্রত্যেকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে।

বৈশ্বিক নানা সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পৃথিবীর বিকল্প কোনো গ্রহ নেই। তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে সুরক্ষিত রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে। সংঘাত, সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংকট তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব, বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

‘গ্লোবাল সাউথ’ বা ‘কালেক্টিভ ওয়েস্ট’ এর মতো পরিচয়ের মাধ্যমে বিশ্বকে বিভক্ত করার পরিবর্তে অভিন্ন স্বার্থ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি জলবায়ু কার্যক্রম, শান্তি, মানবাধিকার ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রত্নতত্ত্ব, ভাষা, জলবায়ু কার্যক্রম ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময় বাড়িয়ে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার সুযোগ গ্রহণ এবং ফরাসি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে এসে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে অংশ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

আলোচনাপর্বে জিল্লুর রহমান বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিনিয়োগ, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।

জবাবে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণের দৃঢ়তা ও গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষার প্রশংসা করে বলেন, এসব মূল্যবোধ ফ্রান্সের সঙ্গেও গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের জন্য বৈশ্বিক সহযোগিতা, ওষুধ শিল্প ও সবুজ জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ বাড়াতে আরও উন্মুক্ত ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ, দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস এবং বিনিয়োগের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রদূত। দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশটির উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয়, বৈচিত্র্যময় শিক্ষার সুযোগ ও আন্তর্জাতিক পরিবেশের কথা তুলে ধরেন এবং ইংরেজি ভাষায় পরিচালিত শিক্ষাক্রমের সুযোগও বাড়ছে বলে জানান। ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দিতে ক্যাম্পাস ফ্রান্সের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতা করছে এবং প্যারিস চুক্তি ও বৈশ্বিক জলবায়ু কার্যক্রমের প্রতি ফ্রান্সের অঙ্গীকার অব্যাহত রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। তবে সংকটটির টেকসই সমাধান মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ওপর নির্ভর করছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি মুক্ত চলাচল, শান্তি ও আন্তর্জাতিক নীতিমালার প্রতি সম্মানের পক্ষে বাংলাদেশকে আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, অংশীদারত্বও সার্বভৌমত্বের একটি অংশ এবং যেসব দেশ বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সম্মান করে ও অযাচিত চাপ প্রয়োগ করে না, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা উচিত।

গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে প্রতিদিনের সংগ্রামের বিষয় উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন এবং মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের বিরোধিতার কথাও তুলে ধরেন। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি বাংলাদেশের জনগণের গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তিনি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ফ্রান্সের প্রস্তুতির কথা জানান এবং বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সম্পর্ক নতুন করে সক্রিয় ও আরও শক্তিশালী করতেই তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, ব্লু ইকোনমি, মানবাধিকার, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা ও বৈশ্বিক কূটনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ব্লু ইকোনমির বিকাশে আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও টেকসই বিনিয়োগের আহ্বান জানান। মানবাধিকার ও সুশাসন প্রসঙ্গে তিনি সমতা, মর্যাদা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সম্মিলিত দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির কথাও স্বীকার করে তিনি তৈরি পোশাক খাতের কারিগরি বাধা দূর করতে মান, শুল্ক ব্যবস্থা ও বাণিজ্য সহজীকরণের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এ ছাড়া তিনি রোহিঙ্গা সংকট, ফ্রান্সে পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ, জাতিসংঘের ভেটো ব্যবস্থা এবং ফরাসি ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ফরাসি ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং মানুষের বিশ্বাসের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখা।


সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)-
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) বাংলাদেশ ভিত্তিক একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক যা সুশাসন, দুর্নীতি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের বিষয়ে গবেষণা ও মিডিয়া স্টাডি পরিচালনা করে। দ্রুত পরিবর্তনশীল জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো শিক্ষাগত সম্প্রদায়, সরকার, বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে শাসনের মান উন্নত করা, বাংলাদেশের নিরাপত্তার চাহিদা পূরণ করা, দারিদ্র্য নিরসনের জন্য উপলব্ধ সম্পদের দক্ষ ও বিচক্ষণ ব্যবহার করার শর্ত তৈরি করা, মানব সম্পদ উন্নয়ন, এবং বর্ধিত গণতন্ত্রীকরণ, অংশগ্রহণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক শৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা।

 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।