রাজশাহীতে জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা বিষয়ক আঞ্চলিক সংলাপে অভিমত

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থায় কৃষি প্রতিবেশ চর্চা বৃদ্ধিসহ জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে

দৈনিক রাজশাহী প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ১১:৪১ এএম ৪৯ বার পঠিত
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থায় কৃষি প্রতিবেশ চর্চা বৃদ্ধিসহ জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থায় কৃষি প্রতিবেশ চর্চা বৃদ্ধিসহ জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে

দৈনিক রাজশাহী
১১ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়তে কৃষিপ্রতিবেশ চর্চা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন স্টেকহোল্ডাররা। আঞ্চলিক বাস্তবতা ও কৃষকের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব না দিয়ে কোনো নীতি কার্যকর হবে না বলেও অভিমত দিয়েছেন তারা।

আজ সোমবার (১১ মে) রাজশাহীর এসকে ফুড সেমিনার হলে “বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা বিষয়ক আঞ্চলিক সংলাপ : এগ্রোইকোলজি দেখাচ্ছে নতুন পথ” শীর্ষক আঞ্চলিক সংলাপ আয়োজন করে ‘উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বারসিক। রোজা লাক্সেমবার্গ স্টিফটুং সাউথ এশিয়ার সহযোগিতায় আয়োজিত সংলাপে বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশ নেন।

সংলাপে বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, কৃষিতে রাসায়নিক নির্ভরতা, দেশি বীজ সংরক্ষণ, নারী কৃষকের ভূমিকা এবং এগ্রোইকোলজি ভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জ্ঞান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কম খরচের কৃষি এবং কৃষকের নিয়ন্ত্রণভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এগ্রোইকোলজি শুধু একটি কৃষি পদ্ধতি নয়, এটি পরিবেশগত ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কার্যকর উপায়।

সংলাপে স্বাগত বক্তব্য দেন বারসিকের পরিচালক সিলভানুস লামিন। সঞ্চালক ছিলেন শাহেদা পূর্ণ। কৃষিপ্রতিবেশ সংকট ও সম্ভাবনার বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্টে বিষয়বস্তু উপস্থাপনা করেন বারসিকের পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ অফিসার আম্রিণ বিনতে আজাদ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে গ্রিন কোয়ালিশন রাজশাহী জেলার সভাপতি, নদী ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ‘বরেন্দ্র একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানে পানি সেচ নির্ভর ধান চাষের পরিবর্তে রবিশস্যের চাষ বাড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘কৃষিপ্রতিবেশ ঠিক রাখতে হলে পরিবেশ ধ্বংস বন্ধ করতে হবে।’

রাজশাহীর পবা উপজেলার কাড়িগড় পাড়ার কৃষাণী রেনুকা বেগম বলেন, ‘কৃষিতে নারীকে নিয়ে অনেক কথা হলেও তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও মর্যাদা আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি কৃষি নীতিতে নারীদের জন্য আলাদা বরাদ্দে’র দাবি জানান।

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, ‘কৃষিপ্রতিবেশ বিষয়ক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পাঠ্যপুস্তকে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না।’

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন গ্রিন কোয়ালিশন রাজশাহী মহানগর আহ্বায়ক জামাল কাদেরী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অভিজিৎ রায় ও বরেন্দ্র কৃষক বীজ ব্যাংকের সভাপতি জায়দুর রহমান প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে বারসিকের বরেন্দ্র অঞ্চল সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উন্নয়নের নামে পরিবেশ ও প্রাণপ্রতিবেশ ধ্বংস হওয়ায় কৃষিপ্রতিবেশ চর্চা সংকটের মুখে পড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসংকট নিরসনে যেসব আইন করা হয়েছে, তার অনেকগুলোই কৃষকবান্ধব নয় এবং অঞ্চলের ভৌগোলিক ও ঐতিহ্যগত বাস্তবতাকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দেয় না। আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে কৃষকের মতামত ও আঞ্চলিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া’র আহ্বান জানান তিনি।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।