ঘোষিত সময়ের আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে দৃষ্টান্ত গড়লো রাসিক

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬, ১০:০৪ এএম আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম ৬৯ বার পঠিত
ঘোষিত সময়ের আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে দৃষ্টান্ত গড়লো রাসিক

ঘোষিত সময়ের আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে দৃষ্টান্ত গড়লো রাসিক

দৈনিক রাজশাহী
৩১ মে ২০২৬

রাজশাহী মহানগরীতে কোরবানির বর্জ্য ঘোষিত সময়ের আগেই অপসারণ করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। পবিত্র ঈদুল আজহার দিন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে নির্ধারিত সময়ের আগেই নগরী পরিচ্ছন্ন করতে সক্ষম হয়েছে রাসিক।

রাসিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। কার্যক্রম চলাকালে বিভিন্ন ওয়ার্ডের পাশাপাশি বুলনপুর, রুয়েট সংলগ্ন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) পরিদর্শন করেন প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।

রাসিক প্রশাসকের নেতৃত্বে ১ হাজার ২৭০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্জ্য অপসারণে নিরলসভাবে কাজ করেন। একই সঙ্গে দুর্গন্ধমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক ছিটানো হয়। এ কাজে প্রয়োজনীয় যানবাহন, সরঞ্জাম ও জনবল সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত ছিল।

দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাড়া-মহল্লা থেকে সংগ্রহ করা কোরবানির বর্জ্য ভ্যানযোগে বিভিন্ন এসটিএসে স্থানান্তর করা হয়। পরে রাতের মধ্যেই এসব বর্জ্য ভাগাড়ে নিয়ে ফেলা হয়। ফলে ঈদের পরদিনই পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত নগরী উপহার পায় রাজশাহীবাসী।

এ অর্জনের জন্য নগরবাসী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগেই পুরো মহানগরী পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করা হবে।”

দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। নগরীর সাহেববাজার এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, “কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের তৎপরতা প্রশংসনীয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই নগরী পরিষ্কার হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”

নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার বিতরণের উদ্যোগটি খুবই ভালো ছিল। এতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সহজ হয়েছে।”

নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “ঈদের দিন প্রশাসক নিজে মাঠে থেকে কার্যক্রম তদারকি করেছেন। এত দ্রুত বর্জ্য অপসারণ হওয়ায় কোথাও দুর্গন্ধ বা ভোগান্তির সৃষ্টি হয়নি।”

উল্লেখ্য, এবারই প্রথম রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের উদ্যোগে মহানগরীর প্রায় ৮২ হাজার হোল্ডিংয়ের মুসলিম পরিবারে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের জন্য তিনটি করে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বিতরণ করা হয়। এছাড়া গরু বা মহিষ কোরবানিদাতাদের জন্য দুটি বড় পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও এক কেজি ব্লিচিং পাউডার এবং ছাগল বা ভেড়া কোরবানিদাতাদের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ৫০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।