রাজশাহীতে সাংবাদিকদের নিয়ে আশার সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কিত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহীর সাংবাদিকদের নিয়ে আশার সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কিত এক মতবিনিময় সভা সমাজসেবা কমপ্লেক্স কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারি কমিশনার এস এম রকিবুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাঃ আব্দুল আওয়াল ও আশা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ডেপুটি ডাইরেক্টর (প্রোগ্রাম) মোঃ সোহায়েল আহমেদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আশার রাজশাহী ডিভিশনাল ম্যানেজার মোঃ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আশার সিনিয়র এডিশনাল ডিভিশন ম্যানেজার ইউনুচ আলী শেখ। এছাড়া আশার সিনিয়র এডিশনাল ডিভিশনাল ম্যানেজার, মোঃ শরিফুল ইলাম ও এডিশনাল ডিভিশনাল ম্যানেজার মোঃ আব্দুল লতিফসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আশা বিশ্বের শীর্ষ আত্ননির্ভর ও স্ব অর্থায়িত ক্ষুদ্রঋণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। আশার প্রাতিষ্ঠানিক কর্ম-প্রয়াস চার দশকের বেশি সময় ধরে চলছে। আশার কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ও অভিষ্ট লক্ষ্য হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবনমানের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তি। সমাজের দরিদ্র ও বৈষম্যের শিকার মানুষদের সংগঠিত করে সচেতন এবং অর্থনৈতিক সেবার মাধ্যমে আর-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আশা নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আশার ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সহায়তায় দেশের লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়েছে।

আশা’র বিশেষত্ব হল, আত্মনির্ভর ও স্ব-অর্থায়িত, নিজস্ব সম্পদ নির্ভর ও অনুদান মুক্ত, সর্বক্ষেত্রে ব্যয় সাশ্রয়ী নীতির কঠোর অনুসরণ, উদ্বৃত্ত আয় থেকে সিএসআর (কর্পোরেট সোস্যাল রেসপন্সিবিলিটি) কার্যক্রম পরিচালনা, এশিয়া ও আফ্রিকার ১৩টি দেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা প্রদান করা। আশা’র সকল কার্যক্রম শতভাগ ডিজিটাল এবং ডিসেম্বর ২৩ হতে “আশা’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সকল ব্রাঞ্চ (৩ হাজার ৭৩টি) অনলাইন কার্যক্রমের আওতাভুক্ত হয়েছে।

আশার আর্থিক সেবার মধ্যে ক্ষুদ্রক্ষণ, এমএসএমই ঋণ, কৃষি ঋণ, সভ্য, রেমিটেন্স। সমগ্র বাংলাদেশে ৭১ লাখ পরিবার আশা’র সুফল ভোগ করছে। সিএসআর কার্যক্রম (কর্পোরেট সোস্যাল রেসপন্সিব্রিলিটি)’র মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সহায়তা, উচ্চ শিক্ষা বৃত্তি, ফিজিওথেরাপি সেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ, স্যানিটেশন।

আশা-বিশ্ববিদ্যালয় ও আশা-ম্যাটস এ গরীব মেধায় ছায়-হাত্রীদের বিশেষ বৃত্তির মাধ্যমে লেখা-পড়ার সুযোগ রয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করোনাকালীন ত্রাণ সহায়তা, করেনা পরবর্তী ১ হাজার কোটি টাকা সার্ভিস চার্জ মওকুফ করা হয় এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের বৃত্তি দেয়া হয়েছে।

আশা’র ঋণগ্রহীতা মারা গেলে ঋণ মওকুফ এবং দাফন-কাফনের নগদ ৫০০০ টাকা সহায়তা প্রদান, সদস্যদের চিকিৎসা সহায়তা, বয়সজনিত কারণে অফেরতৎ যোগ্য ১৫০০০ টাকা এককালীন অবসর ভাতা প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য যে, রাজশাহী বিভাগে ২২৬টি ব্রাফের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৮০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল; যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ লাখ ৮০ হাজার ৩৮২ জনকে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা ঋণবিতরণ করা হয়েছে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।

আশা-রাজশাহী বিভাগে ১ হাজার ৬৯টি কেন্দ্রে ৩৫ হাজার ৬৫৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ হাজার ৪১ জনকে ৮:৮৭ কোটি টাকা স্যানিটেশন ঋণ বিতরণ, ৫টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১ লাখ ২৩ হাজার ৪২০ রোগীকে সেবা প্রদান; ২টি ফিজিওথেরাপী সেন্টারের মাধ্যমে ১০ হাজার ৪৬৩ জনকে অপারেশন বিহীন হাঁটু কোমর ঘাড়-হাতে ব্যাথা, প্যারালাইসিস, আঘ্রাইটিস ডিস্ক প্রলেপসহ সকল প্রকার জয়েন্টের সমস্যার চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আশার সদস্যের বীমাদাবি পরিশোধ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬১৯ জনকে ১৫.১৯ কোটি টাকা, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে ১ হাজার ৯৮৬ জনকে ৫১.৫৮ লাখ টাকা। সদস্যের মৃত্যুজনিত দাফন-কাফনে ৫০০০ টাকা করে ৬৬৭ জনকে ৩৩.৩৫ লাখ টাকা, ৪৮ জনকে ৭২০ লাখ টাকা এককালীন অবসর ভাতা প্রদান এবং জেলা প্রশাসকের নিকট শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০০টি।

রাজশাহী জেলায় ৭৫টি ব্রাঞ্চের মাধ্যমে ২০০৪-২৫ অর্থ বছরে ১ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ২০১৪-১০২৫ অর্থ বছরে ২.২২ লাখ জনকে ১ হাজার ২৭৭.৮৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।

আশা রাজশাহী জেলায় ৩৪৫টি কেন্দ্রে ১১ হাজার ২২৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ‘আশা-প্রাথমিক’ শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে স্যানিটেশন ঋণ বিতরণ ১ হাজার ১৩১ জনকে ২.০৭ কোটি টাকা, ১টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩৪ হাজার ৯৭১ জন রোগীকে সেবা প্রদান; ১টি ফিজিওথেরাপী সেন্টারের মাধ্যমে ৪ হাজার ৯৩২ জন অপারেশন বিহীন হাঁটু-কোময় ঘাড়-হাতে ব্যাথা, প্যারালাইসিস, আথ্রাইটিস, ডিস্ক প্রলেপসহ সকল প্রকার জয়েন্টের সমস্যার চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

আশার সদস্যের বীমাদাবি পরিশোধ করা হয়েছে ১ হাজার ২২৬ জনকে ৪.৮৭ কোটি টাকা, সদস্যকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে ৯১৫ জনকে ১২.৩৩ লাখ টাকা। সদস্যের মৃত্যুজনিত দাফন-কাফনে ৫ হাজার টাকা করে ১৯৩ জনকে ৯.৬৫ লাখ টাকা এবং ১১ জনকে ১.৬৫ লাখ টাকা এককালীন অবসর ভাতা প্রদান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নিকট শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে ৪০০টি। এছাড়াও সরকারি সকল দিবসে আশা’র প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button