রাজশাহীতে সেবাদানকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে সুশীল সমাজের সংলাপ

শাহিনুর রহমান সোনা, রাজশাহী: রাজশাহীতে খান ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত, ”ভয়েসেস ফর চেঞ্জ-এমপাওয়ারিং সিটিজেনস ফর ইনক্লুসিভ গভার্নেন্স, সোস্যাল জাস্টিস এন্ড জেন্ডার ইকুয়ালিটি” প্রকল্পের আওতায় সরকারি সেবাপ্রদানকারী ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সাথে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টায় নগরীর একটি চাইনিজ রেস্তোরায় সমতা নারী কল্যাণ সংস্থা এবং লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার (লফস) আয়োজন ও বাস্তবায়ন সহযোগিতায়, সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট এ্যান্ড কোঅপারেশন (এসডিসি), গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর আর্থিক এবং জিএফএ নাগরিকতা এর কারিগরি সহযোগিতায় সরকারি সেবাপ্রদানকারী ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সাথে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন লফস’র নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক মহিলা কমিশনার শাহনাজ পারভীন লাকি, আঞ্চলিক উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক ইউসুফ আলী চৌধুরী, অগ্রগামী প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা পরিচালক রবিউল ইসলাম, সুরভি মহিলা সমিতির সভাপতি মাকসুদা বেগম, খান ফাউন্ডেশন (পবা-পুঠিয়া) প্রকল্প কর্মকর্তা নিমাই চন্দ্র সরকার, খান ফাউন্ডেশন (দূর্গাপুর-চারঘাট) প্রকল্প কর্মকর্তা শিরিনা আকতার সহ, রাজশাহী বারের নারী আইনজীবি, কর্ম এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি সেবা প্রদানকারী ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সাথে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং সংলাপের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন খান ফাউন্ডেশনের রাজশাহী জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। উপ-পরিচালক যুব উন্নয়ন শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি জাতির মূল চালিকাশক্তি হলো তার যুবসমাজ। রাজশাহী জেলার যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই সংলাপে সেবা প্রদানকারী হিসেবে আমি আমাদের কার্যক্রম এবং আপনাদের সাথে সমন্বয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছি জেলার বেকার যুবক ও যুবতীদের জন্য আমরা কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক্স, সেলাই ও ব্লক-বাটিক, গবাদি পশু পালন এবং মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন মেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণের আয়োজন করি। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতি আমার অনুরোধ আপনাদের এলাকার কর্মক্ষম কিন্তু বেকার যুবকদের আমাদের এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে আসার জন্য উৎসাহিত করুন। দক্ষ হাত কখনোই বেকার থাকে না। প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী যুবকদের জন্য আমরা সহজ শর্তে ‘যুব ঋণ’ প্রদান করে থাকি। যাতে তারা অন্যের অধীনে কাজ না করে নিজেই একজন উদ্যোক্তা হতে পারে। স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ, আপনারা যখন গ্রাম পর্যায়ে তালিকা তৈরি করেন, তখন সত্যিকারের আগ্রহী এবং পরিশ্রমী যুবকদের আমাদের কাছে পাঠান, যাতে ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। জেলার বিভিন্ন নিবন্ধিত যুব সংগঠনগুলো বৃক্ষরোপণ, রক্তদান এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। সুশীল সমাজ এবং স্থানীয় সরকার যদি এই সংগঠনগুলোকে সামাজিক কর্মকান্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করে, তবে রাজশাহী জেলা থেকে মাদক, বাল্যবিবাহ এবং ইভটিজিং নির্মূল করা অনেক সহজ হবে। কিন্তু গ্রাম পর্যাায়ে তরুনদের প্রশিক্ষণ নিতে অনাআগ্রহ। আমাদের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে সংগঠন গুলো নিবন্ধন নিচ্ছে ঠিকই কিন্তু নিবন্ধন নেবার পর অনেক সংগঠন সক্রিয় থাকছেনা। আমাদের রাজশাহী জেলা যুব উন্নয়নে জনবলের সংকট রয়েছে । তাই সুশীল সমাজকে বলব আপনারা যুবদের উৎসায়িত করুন বেকার না থেকে নিজেকে স্বাবলম্বী হতে। বক্তারা আরও বলেন সরকারের পক্ষ থেকে অসংখ্য জনকল্যাণমূলক সেবা নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তথ্যের অভাব বা সমন্বয়হীনতার কারণে সাধারণ মানুষ সেই সেবাগুলো থেকে বঞ্চিত হয়। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে একজন সাধারণ নাগরিক কোনো দ্বিধা ছাড়াই তার প্রাপ্য অধিকার বুঝে নিতে পারেন।সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আমি অনুরোধ করব, আপনারা কেবল ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেবেন না, বরং সমাধানের পথও বাতলে দেবেন। আপনারা জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেন। আপনাদের গঠনমূলক সমালোচনা ও পর্যবেক্ষণ মাঠ পর্যায়ের সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এধরণের কর্মসূচীর জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তারা।





