রাজশাহীতে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে নারীসহ পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আটক: ৬ষ্ঠ স্ত্রী’র অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২০ পিএম আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম ২৬ বার পঠিত
রাজশাহীতে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে নারীসহ পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আটক: ৬ষ্ঠ স্ত্রী’র অভিযোগ
শুক্রবার সকালে পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে নগরীর নাদের হাজীর মোড়ের ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা। ইনসেটে পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলম | ছবি: দৈনিক রাজশাহী

রাজশাহীতে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে নারীসহ পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আটক: ৬ষ্ঠ স্ত্রী’র অভিযোগ

দৈনিক রাজশাহী
১৮ সেপ্টে ২০২৬

রাজশাহীর নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাট থেকে সিরাজগঞ্জ ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত নওগাঁ জেলায় কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলম নারীসহ আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঐ ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙেন। তাকে জনরোষ থেকে বাঁচাতে আরএমপির চন্দ্রিমা থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়। 

এদিকে নওগাঁর বাসিন্দা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আন্নি আক্তার চন্দ্রিমা থানায় পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তার অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। আটক মাহবুব ও সানজিদা থানার পৃথক কক্ষে আটক ছিলেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঐ ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের। তবে দরজা ভাঙার পর ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়াকে পাওয়া যায়নি। শুধু পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবও সানজিদা নামক নারীকেই পাওয়া যায়। 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে পরনারী নিয়ে মাহবুবের অবস্থানের খবর পেয়ে ৬ষ্ঠ স্ত্রী আন্নি আক্তার শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঐ ফ্ল্যাটে আসেন। তিনি ২ ঘণ্টা দরজায় দাঁড়িয়ে কড়া নাড়লেও সাড়া দেননি পরিদর্শক মাহবুব। একপর্যায়ে সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হলে আন্নি আক্তার ৯৯৯ এ কল দেন। এরপরও দরজা না খোলায় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। জনতার চাপে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দরজা ভাঙলে পরিদর্শক মাহবুবসহ তার সঙ্গী নারীকে পুলিশ চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে যায়। এসময় আটক মাহবুব দাবি করেন, আন্নি আক্তারকে তিনি চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন। 

প্রসঙ্গত, এই মাহবুব আলম পুলিশ ইন্সপেক্টর হোসনে আরাকে বিয়ে করেন। কিন্তু মাহবুবের চরিত্রহীনতার প্রতিবাদ করায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর হেসেনে আরা বিয়ে করলে মাহবুব আলম, তার নতুন স্বামীকে ছাত্রশিবিরের ক্যাডার বানিয়ে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও নির্যাতনে পঙ্গু করেন বলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে দেওয়া অভিযোগে হোসনে আরা উল্লেখ করেন। এরপর ২০২০ সালে পরিদর্শক মাহবুব আলম আরএমপির পুলিশ সার্জেন্ট সাবিহা আক্তারকে বিয়ে করেন। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, জোরপূর্বক গর্ভপাত এবং ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার চেয়ে সার্জেন্ট সাবিহার রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজিকে তিন পাতার লিখিত অভিযোগ দেন। সাবিহার অভিযোগের প্রেক্ষিতেই পরিদর্শক মাহবুব আলমকে নওগাঁ জেলা পুলিশে বদলী এবং সিরাজগঞ্জে ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) থাকাবস্তায় ওসির চেয়ারে বসে মাহবুব আলমের খাম নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হলে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

আন্নি আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, মাহবুব চরিত্রহীন পুলিশ। সে যেখানে যায়, সেখানেই নারীদের ফুসলিয়ে বিয়ে করে। এর বাইরেও অসংখ্য নারীর সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। গত জানুয়ারিতে মাহবুব তাকেও ফুসলিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের তিনি মাহবুবকে পদ্মা আবাসিকের নিজের ফ্ল্যাটে নারীর সঙ্গে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তখন নিজের মান-সম্মানের ভয়ে ছেড়েও দেন। তিনি মাহবুব আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

চন্দ্রিমা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে আছেন। আন্নি আক্তারের লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিকাল ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিদর্শক মাহবুব আলম ও সানজিদার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসলে সিদ্ধান্ত হবে।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, পরিদর্শক মাহবুব আলম মাহবুব ছুটি নেননি। অনুমতি ছাড়াই রাজশাহী গেছেন। এটাও তার একটা অপরাধ। তার আটক হওয়ার খবর নওগাঁর পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নিবেন। 

 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।