আপডেট নিউজ

রাজশাহীর ফ্ল্যাটে নারীসহ আটক নওগাঁর পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলমকে অবশেষে ছেড়ে দিল আরএমপি!

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম ১৫ বার পঠিত
রাজশাহীর ফ্ল্যাটে নারীসহ আটক নওগাঁর পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলমকে অবশেষে ছেড়ে দিল আরএমপি!

রাজশাহীর ফ্ল্যাটে নারীসহ আটক নওগাঁর পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলমকে অবশেষে ছেড়ে দিল আরএমপি!

দৈনিক রাজশাহী
১৮ সেপ্টে ২০২৬

রাজশাহীর ফ্ল্যাটে নারীসহ আটক নওগাঁ জেলা পুলিশের পরিদর্শক মাহবুব আলম ও নারী সানজিদা মৌকে ছেড়ে দিয়েছে রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। আরএমপি’র মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, পুলিশ পরিদর্শক আটক মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে সঙ্গের নারী সানজিদার কোনো অভিযোগ নেই। তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সানজিদার অভিযোগ থাকলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ছিল।’ তিনি আরও জানান, সানজিদা মৌকে পরিদর্শক মাহবুব আলম নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি বলেও জানান আরএমপির এই কর্মকর্তা।

জানা গেছে, পরিদর্শক মাহবুব আলম ইতোপূর্বে আরএমপির চন্দ্রিমা ও দামকুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং বোয়ালিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছিলেন। তার বহুবিবাহের এবং স্ত্রীদের অর্থসম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার অভ্যাস রয়েছে। পুলিশ পরিদর্শক সাবেক দুইজন স্ত্রী, তার বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলেও একজনের অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় মামলাও হয়েছে। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে সিরাজগঞ্জ ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন। সেখান থেকেই বিনাছুটি এবং বিনাঅনুমতিতে রাজশাহী এসে চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড়ের ফ্ল্যাটে নারী নিয়ে অবস্থান করছিলেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় ওই ফ্ল্যাটে হাজির হন পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলমের ৬ষ্ঠ স্ত্রী দাবি করা আন্নি আক্তার। তার বাড়ি নওগাঁয়, তিনি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। প্রায় দুই ঘণ্টা দরজায় দাঁড়িয়ে কড়া নাড়লেও মাহবুব আলম ফ্ল্যাটের দরজা খোলেননি। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে দরজা ভাঙলে ফ্ল্যাটে শুধু মাহবুব আলম ও সানজিদাকে পাওয়া যায়। পরে পুলিশ তাদের চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে যায় এবং সন্ধ্যায় ছেড়ে দেয়।

আন্নি আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, পরিদর্শক মাহবুব আলম বহুগামী সম্পর্কে অভ্যস্ত। তার (আন্নি) সঙ্গে বিয়ের চারমাসে সানজিদা ও মাহবুব আলমকে তিনি তিনবার একান্তে মিলিত হওয়া ধরেছেন। তবে নিজের সম্মান হানির ভয়ে দু’বার কাউকে বলেননি।

অন্যদিকে আটকের পর আন্নি আক্তার, পরিদর্শক মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে তার ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আরএমপির মুখপাত্র জানান, এমন অভিযোগ পুরনো। অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। মাহবুবকে নিয়ে রাজশাহীতে যা ঘটেছে, তা তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। মাহবুব আলম ছুটি নেননি। তিনি কাউকে জানিয়েও রাজশাহী যাননি। বিনাঅনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগও একটা অপরাধ। বিষয়টি তার কর্মস্থল নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নিবেন। 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।