এবার চামড়া সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি দেখতে চাই না: এমপি মিলন
এবার চামড়া সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি দেখতে চাই না: এমপি মিলন
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বলেছেন, দেশের চামড়া শিল্প পোশাক শিল্পের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। অথচ কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির অসাধু চামড়া ব্যবসায়ী এতিম-গরিব মানুষের হকের অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা চালায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
শনিবার সকালে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি মিলন বলেন, “দেশে সারা বছরে যে পরিমাণ পশুর চামড়া সংগ্রহ হয়, তার অর্ধেকেরও বেশি আসে কোরবানির ঈদের সময়। এই চামড়ার অর্থের প্রকৃত হকদার দেশের এতিম, গরিব, মিসকিন ও অসহায় মানুষ। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে চামড়া সিন্ডিকেটের নানা কারসাজির কারণে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়েছে, বিক্রি হয়নি কিংবা অতি কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চাই না।”
তিনি বলেন, “চামড়া সংরক্ষণের জন্য সরকার বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করছে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে, যেন কোনোভাবেই চামড়া নষ্ট না হয় এবং এর প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত করা যায়।”
পশু বিক্রেতাদের বিষয়ে তিনি বলেন, “অনেক নিম্নআয়ের মানুষ সংসারের প্রয়োজনে দীর্ঘদিন লালন-পালন করা গরু-ছাগল বিক্রি করেন। তারা যেন তাদের পশুর ন্যায্য মূল্য পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। পশুর হাটে কোনো দালাল চক্র বা সিন্ডিকেটের খপ্পরে যাতে কেউ না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।”
এ সময় তিনি সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নির্দেশনা দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং কোরবানির পশুর চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। চামড়া সংরক্ষণে লবণের ব্যবহার সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এম এ মান্নান, হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ ও আব্দুল হালিম।
এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।