গরু আনতে ভারতে গিয়ে নিখোঁজ যুবকের লাশ ভেসে এলো পদ্মায়

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ১২:২৩ পিএম আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ০৫:১২ এএম ২৬ বার পঠিত
গরু আনতে ভারতে গিয়ে নিখোঁজ যুবকের লাশ ভেসে এলো পদ্মায়

গরু আনতে ভারতে গিয়ে নিখোঁজ যুবকের লাশ ভেসে এলো পদ্মায়

দৈনিক রাজশাহী
১৭ মে ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজ হওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মো. শওকত আলী (৩০) শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঠাপাড়া গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ১১ মে রাত ১টার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে বিজিবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ ৫৩ ব্যাটালিয়নের জহুরপুর টেক বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২৩/৭-এসের কাছ দিয়ে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল অবৈধভাবে গরু আনার উদ্দেশ্যে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ওই দলের সঙ্গে থাকা শওকত আলী পরে নিখোঁজ হন বলে জানা যায়। তবে শওকত আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিজিবি ক্যাম্পে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। এরপর গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ৫৩ বিজিবির ফরিদপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পদ্মা নদী থেকে শওকত আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্বজনদের খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যান। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। রাত দেড়টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত ব্যক্তির চাচা আনারুল ইসলাম বলেন, ‘মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা লাশটি উদ্ধার করে খবর দিলে আমরা সেখানে গিয়ে লাশটি নিয়ে আসি। পরে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ নিয়ে যায় এবং এখন ময়নাতদন্ত করছে। তবে আমার ভাতিজা গরু আনতে গিয়েছিল কি না, নাকি মাছ ধরার সময় মারা গেছে—সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই।’

এ বিষয়ে ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছি, শওকত আলী ১০ মে গরু আনতে ভারতের অভ্যন্তরে গিয়েছিলেন। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে পুলিশ তা উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়।’

এবার পশ্চিমবঙ্গে গরুর ‘বার্থ সার্টিফিকেট’ চান বিজেপি বিধায়ক 

শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মতিউর রহমান জানান, শনিবার রাতে সদর থানার আওতাধীন পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসছেেএমন খবর পাওয়া যায়। তবে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহটি শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তারাপুর ঠুঠাপাড়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠায়। ওসি বলেন, ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি পরিচালনা করছে।

গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এসআই জীবন জানান, শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। রোববার দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ময়নাতদন্ত শুরু হয়নি।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।