উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুহাট নিয়ন্ত্রণ করছেন আ.লীগের আমিন
উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুহাট নিয়ন্ত্রণ করছেন আ.লীগের আমিন
উত্তরের ১৬ জেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ পশুর মোকাম রাজশাহীর সিটি হাট। সারাবছর হাটটি চালু থাকলেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে হয়ে ওঠে লাখো ক্রেতা-বিক্রেতার আগমনে জমজমাট। স্থানীয় ক্রেতাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারিরা হাটে আসেন।
জানা গেছে, ঈদের আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার গরু-মহিষ কেনা-বেচা হয়। এসময় ইজারাদারদের কাছে হাটটি হয়ে ওঠে টাকা কামানোর মেশিন। হাট পরিচালনা এবং টোল আদায়ের সমস্ত বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ।
সূত্র জানায়, গত এপ্রিলে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) বিএনপি-জামায়াত-আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে হার মেনে স্বলমূল্যে উত্তরাঞ্চলের এ বড় পশুর মোকামটি ইজারা দেয়। কাগজ-কলমে শওকত আলী নামে রাজশাহী মহানগরীর একজন ব্যবসায়ী এ হাটের ইজারাদার। তবে শওকতসহ তিনটি দলের মোট ছয়জন নেতা ও সমর্থক এ হাটটির মূল অংশিদার। তবে এ হাটটি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করছেন আওয়ামী লীগ কর্মী আমিনুল ইসলাম আমিন নামের একজন ‘সুবিধাভোগী’ ব্যবসায়ী।
সূত্র জানায়, আমিন সিটি করপোরেশন থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় দুইশ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ। আওয়ামী আমলের ১৬ বছর এই হাটের ইজারাদার দলটির নেতা আতিকুর রহমান কালুর ডানহাত হিসেবে কাজ করেন তিনি। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চতুর আমিন বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের সাথে গড়েছেন বিশেষ সখ্য। দলীয় পদ না নিলেও আওয়ামী শাসনামলে দলটির নেতাদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক আমিনের সাথে বর্তমানে বিএনপি নেতাদের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই আমিনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, দলটির নেতাদের সাথে বিশেষ সম্পর্ক এবং নির্বাচন ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য পোস্ট করেছেন। আমিনের অতীত কর্মকাণ্ডের এসব লেখা ও ছবি গণমাধ্যমের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে রাসিক নির্ধারিত টোল না মেনে গরু-মহিষ প্রতি আদায় করা হচ্ছে দুই থেকে তিনশ টাকা বেশি। টোল আদায়ের রশিদে লেখা থাকছে না টাকার পরিমাণ। নিয়ম ভেঙে বিক্রেতাদের কাছ থেকেও আদায় করা হচ্ছে টাকা। এভাবে প্রতিহাটে অন্তত পৌনে এক কোাটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে কথা বলে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। টোল আদায়ের রশিদের ছবি এবং ক্রেতা-বিক্রেতার ভিডিও এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
অন্যদিকে একই গরু হাত বদল হয়ে দুইবার বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে ইজারাদাররা বিক্রেতা কৃষক এবং ক্রেতা ফড়িয়াদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চারশ টাকা আদায় করছেন। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি বাহিনীর নামে প্রতি গরু ও মহিষ থেকে আদায় করা হচ্ছে চারশ থেকে পাঁচশ টাকা।
অভিযোগ উঠেছে, সিলেট সীমান্ত পার হয়ে আসা ভারতীয় গরু ও মহিষের মূল্য হিসেবে প্রতিহাটে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে অন্তত ২০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে বেরিয়ে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিহাটে বাড়তি পৌনে এক কোটি টাকা আদায় সিটি হাটে গত শনি এবং রোববার ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে সরেজমিনে বেশি টোল আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সিটি হাটের বিভিন্ন প্রান্তের ১২টি বুথে টোল আদায় করা হচ্ছে। তবে টোল আদায়ের নির্ধারিত হার সংক্রান্ত কোনো সাইনবোর্ড নেই। একটি বুথের সামনে ছোট্র করে টোল আদায়ের হার লেমেনেটিং করা একটি কাগজে ঝুলানো হয়েছে। সেখানে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত হার প্রতিটি মহিষের ৮০০, গরু ৭০০ এবং ছাগলের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা উল্লেখ রয়েছে।
নাটোরের গুরুদাসপুর সদরের কৃষক গরু বিক্রেতা হেলাল বলেন, ‘আমার কাছে একশ টাকা নিয়েছে। তবে টাকা নেওয়ার রশিদ দেয়নি।’ বিক্রেতার কাছ থেকে টোল নেওয়ার নিয়ম নেই জিঙ্গেস করলে তিনি বলেন, ‘ইজারাদাররা জোর করে নিলে কিছুই করার নেই।’ একই এলাকার আরেক ব্যক্তি আসমত আলী দুটি মহিষ কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মহিষের জন্য আমার কাছে ৯০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আর বিক্রেতার কাছ থেকে আদায় করেছে ২০০ টাকা। ’
রাজশাহী নগরীর ভাটাপাড়ার কাদের মণ্ডল মোড়ের বাসিন্দা ক্রেতা ইব্রাহিম বলেন, ‘গরুর জন্য আমার কাছ থেকে ৮০০ টাকা টোল নেওয়া হয়েছে। তবে টোল আদায়ের রশিদে টাকার পরিমাণ উল্লেখ নেই।’ ভেড়িপাড়া মোড়ের আব্দুল আলিমের কাছেও একই পরিমাণ টোল নেওয়া হয়েছে। আর বিক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ২০০ টাকা। মহানগরীর দরগাপাড়া এলাকার আসাদ বলেন, ‘আমার কাছ থেকে ৮০০ টাকা নিয়েছে। বিক্রেতার কাছ থেকে টাকা চাইছিলেন বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। বিক্রেতার হয়ে আমি আরও একশ টাকা দিয়েছি।’
রাজশাহীর পবা উপজেলার মুরারিপুর এলাকার ইয়াসিন আলী বলেন, ‘ছাড় নিয়েছে ৮০০ টাকা।’ এছাড়া হাটে ক্রেতা রাজশাহী মহানগরীর টিকাপাড়ার মনির, বিলসিমলার আলম, ভাটাপাড়ার গাজলু, পবা উপজেলার ধর্মহাটার আতিকুল, একই উপজেলার দামকুড়ার ইয়াসিন, নাটোরের গুরুদাসপুরের তফেজ আলীর টোল আদায়ের রশিদে দেখা গেছে, সেখানে টাকার পরিমাণ উল্লেখের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকলেও সেটি ফাঁকা রয়েছে। তবে রশিদে ক্রেতা-বিক্রেতার নাম, গরুর বিবরণ এবং আদায়কারী স্বাক্ষর উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি গরু এবং মহিষে টোল থেকে ২০০-২৫০ টাকা ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে বেশি নেওয়া হচ্ছে। ঈদের আগে প্রতিহাটে অন্তত ৩০ হাজার গরু ও মহিষ বিক্রি হয়। এ হিসেবে হাটপ্রতি বাড়তি প্রায় ৭৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সিটি হাটের ইজারাদাররা। অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল অর্থ হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মধ্যস্বত্বভোগী।
হাটে রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নওগাঁর ছোট খামারিরা গরু নিয়ে আসেন। আর এসব গরু কিনে নেন ফড়িয়ারা। খামারিরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বারদের কাছ থেকে আনা ছাড়পত্র ফড়িয়াদের কাছে হস্তান্তর করেন। এসময় ইজারাদারদের নিয়োগকৃত লোকজন খামারির কাছ থেকে ১০০ এবং ফড়িয়াদের কাছে গরুপ্রতি ৩০০ টাকা নেন। তবে এর জন্য খামারি বা ফড়িয়াদের কোনো প্রমাণপত্র দেওয়া হয়না। শুধুমাত্র ইজারাদারদের নিজস্ব রেজিস্টারে সেটির উল্লেখ থাকে। এরকম টাকা নেওয়ার কোনো বিধান না থাকলেও এর মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে চাঁদাবাজি হাটের মূল নিয়ন্ত্রক আওয়ামী লীগ কর্মী আমিনুল ইসলাম আমিনের বিরুদ্ধে বেপারিদের কাছ থেকে আইনশ্খৃলা রক্ষাকারী একটি বাহিনীর নামে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও এ ব্যাপারি হয়রানি, ভোগান্তি এবং ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হবার আতঙ্কে ব্যাপারিরা মুখ খোলার সাহস পান না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঈদের মৌসুমে প্রতি হাটের দিন ৪৫০ থেকে ৫০০টি ট্রাকে রাজধানী ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনি, চট্রগ্রাম এবং সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গরু ও মহিষ নিয়ে যান ব্যাপারিরা। এজন্য ট্রাকপ্রতি তিন হাজার করে টাকা আদায় করেন আমিন। এর মাধ্যমে প্রতিহাটে ১৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হয়।
ঈদের মৌসুমে শুধুমাত্র এ কৌশলে ইজারাদারা অন্তত আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা ব্যাপারিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন। এছাড়া সারা বছর সপ্তাহের প্রতি রোব ও বুধবার অন্তত দেড়শ ট্রাক গরু-মহিষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। এসময়েও ট্রাকপ্রতি একই পরিমাণ চাঁদা আদায় করা হয়। হুন্ডিতে টাকা পাচারের অভিযোগ সিলেট সীমান্ত দিয়ে বড় আকারের ভারতীয় গরু এবং মহিষ দেশে প্রবেশ করে। এরপর সিলেটের স্থানীয় চোরাচালানিরা সুকৌশলে এসব গরু ও মহিষের ছাড়পত্র তৈরি করেন। তারপর সেগুলো ওই এলাকার ছোট ছোট পশুহাটে তোলা হয়। এসব পশুহাট থেকে ব্যাপারিরা প্রতিহাটে ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক গরু ও মহিষ রাজশাহী নিয়ে আসেন। আকার এবং ওজনে বেশি হওয়ায় প্রতিট্রাকে ১২ থেকে ১৬টি গরু-মহিষ আনা যায়। প্রতি সপ্তাহে দুই হাটের দিন ৪৫০ থেকে ৫০০ গরু ও মহিষ সিটি হাট থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের হাটগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ভারত থেকে এসব গরু এবং মহিষ মাংসের জন্য নিয়ে আসে চোরাকারবারিরা। গরুর ওজন আট থেকে নয় মণ। মহিষও আট থেকে ১০ মণ ওজনের হয়। সিটি হাটে ভারতীয় একটি মহিষের দাম চার লাখ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ সাড়ে পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত। আর গরুর দাম তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ৫০০ এর মধ্যে গরুর সংখ্যা অন্তত ৩০০টি থাকে। প্রতি গরুর দাম তিন লাখ ২০ হাজার টাকা ধরলেও ৩০০ গরুর দাম নয় কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর প্রতি মহিষের দাম সাড়ে পাঁচ লাখ হলেও ২০০ মহিষের দাম হয় ১১ কোটি টাকা। গরু ও মহিষের মোট দাম সাড়ে ২০ কোটি টাকার বেশি। এ পরিমাণ টাকা প্রতি হাটে ব্যাপারিরা হাটের ইজারাদারদের সহযোগিতায় হুন্ডির মাধ্যমে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে পরিশোধ করেন।
গরু-মহিষের টোল কিছুটা বেশি আদায় করা হয় স্বীকার করে ইজারাদার শওকত আলী বলেন, ‘আমরা গরু-মহিষের টোলে ১০০ টাকা করে বেশি আদায় করি। কর্মচারী এবং ব্যবস্থাপনার খরচ হিসেবে এটি নেওয়া হয়। এর বেশি নেওয়ার অভিযোগ সঠিক না।’ রশিদে টোল আদায়ের টাকার পরিমাণ উল্লেখ না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সময়ের অভাবে লেখা হয় না। এরপর থেকে লেখা হবে।’ তবে নিয়ম ভেঙে বিক্রেতার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি বাহিনীর নামে ব্যাপরিদের কাছে ট্রাকপ্রতি চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে শওকত আলী বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ সঠিক না। ব্যাপারিদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়না। কাউকে টাকা দেওয়া হয় না। হুন্ডি ব্যবসার সাথে সিটি হাটের কোনো ইজারাদার সম্পৃক্ত না। আর এ মাধ্যমে ভারতে টাকা পাচারের অভিযোগটিও ভিত্তিহীন।’
জানা গেছে, চোরাচালানে আমিনের উত্থান আমিনের বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ বশড়ির পদ্মানদী সংলগ্ন এলাকায়। এ এলাকা থেকে ভারতীয় সীমান্তের দূরত্ব মাত্র চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার। স্থানীয়রা বলছেন, ‘৯০ এর দশকে কিশোর বয়সেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন আমিন। এরপর ২০০৬ সালের অক্টোবরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসলে আমিন গরু চোরাচালান আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাফিয়া আলী জাফর বাবু ওরফে ল্যাংড়া বাবুর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। বাবু ২০০৭ সালে ক্রসফায়ারে নিহত হন। নিহত গুরু ল্যাংড়া বাবুর দীক্ষা নিয়ে রাজশাহী অঞ্চলে গরু চোরাচালান জগতের গডফাদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন আমিন। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দলটির স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন তিনি।
আমিন আওয়ামী লীগের সময়ে প্রতিটি নির্বাচনে এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ছিলেন অর্থের বড় যোগানদাতা। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলে কালু আত্মগোপনে চলে যান। আর দ্রুত ভোল পাল্টে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে মিশে যান আমিন।
আওয়ামী লীগ আমলের সিটি হাটের অন্য ইজারাদাররা পালিয়ে গেলেও বর্তমানেও সিটি হাটের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে বহাল তবিয়তে আছেন তিনি। গরু ও মহিষের টোল বেশি আদায় এবং টাকার পরিমাণ উল্লেখ না থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘কোনো কর্মচারী ছাড়ের বেশি টাকা নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টাকার পরিমাণ উল্লেখ না করার বিষয়টির ব্যাপারে ব্যাপারিরা আগ্রহী না। এটা আমাদের ব্যবসায়িক পলিসি।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি বাহিনীর নামে ব্যাপারিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ব্যাপারিদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় না। এটি ভুল তথ্য। শুধুমাত্র টোলের টাকা নেওয়া হয়।’ সীমান্ত পেরিয়ে সিলেট থেকে সিটি হাটে আসা ভারতের গরু-মহিষের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পরিশোধের অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ক্ষুব্ধ হন। এসময় আমিন বলেন, ‘হুন্ডির মাধ্যমে টাকা ভারতে পাচারের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি চেম্বার অব কমার্সের ডাইরেক্টর। হুন্ডির অসত্য কথা বলায় আমি এক্সট্রেমলি সরি।’
সিটি করপোরেশন ও পুলিশ যা বলছে ইজারাদারদের বেশি টোল আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব (সিনিয়র সহকারী সচিব) সোহেল রানা বলেন, ‘টোল আদায় নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আমরা ছাড়পত্রে টোলের পরিমাণ উল্লেখ করার জন্য ইজারাদারদের সতর্ক করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের টিম কাজ করছে। আমরা চাই না, কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হোক।’ টোল বেশি আদাায়ের ব্যাপারে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপকমিশনার গাজিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আজকে (সোমবার) আমরা হাটে খোঁজ নিতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়েছি। আজকে অসংগতি পাইনি। টাকা বেশি নিলে ক্রেতা-বিক্রেতারা সিটি করপোরেশনকে জানাবেন। আর কোনো ব্যক্তি অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’ ট্রাকপ্রতি ব্যাপারিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জানা নেই। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখব। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। তবে আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, পুলিশের পক্ষ থেকে কেউ টাকা নেন না।’