মান্দায় শোকের মাতম

ভাড়ার টাকা বাঁচাতেই রডের ট্রাকে ঈদযাত্রা : ৯ বন্ধুর জন্য ঘরে ঘরে কান্নার রোল

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬, ০৮:০৩ এএম আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ এএম ৫৫ বার পঠিত
ভাড়ার টাকা বাঁচাতেই রডের ট্রাকে ঈদযাত্রা : ৯ বন্ধুর জন্য ঘরে ঘরে কান্নার রোল

ভাড়ার টাকা বাঁচাতেই রডের ট্রাকে ঈদযাত্রা : ৯ বন্ধুর জন্য ঘরে ঘরে কান্নার রোল

দৈনিক রাজশাহী
২৭ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৯ বন্ধুসহ ১৫ জন নিহত হয়েছেন। বাসের অতিরিক্ত ভাড়া বাঁচাতে তাঁরা ট্রাকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো মান্দা উপজেলায় এখন শোকের মাতম চলছে।

সোমবার (২৫ মে) টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।

পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে কর্মস্থল নোয়াখালী থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। বাসের অতিরিক্ত ১ হাজার ৮০০ টাকা ভাড়া বাঁচাতে তাঁরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী থেকে একটি রডবোঝাই ট্রাকে চড়ে বসেন।

ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত এবং ১০ জন গুরুতর আহত হন। নিহত ১৫ জনের ৯ জনই নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় স্তব্ধতা আর শোক নেমে এসেছে।

নিহতদের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের মো. সুলতানের ছেলে মোহাম্মদ তারেক, মো. আব্দুর রশিদের ছেলে মো. আব্দুল বারেক, মো. আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ বাদশা, একাব্বরের ছেলে মো. সোহাগ, মো. শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল এবং মোহাম্মদ সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগর। এ ছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ মাইনুল ও মোহাম্মদ গিয়াসও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন জানান, তাঁর ছেলে ও বন্ধুরা নোয়াখালী এলাকায় মানুষের ফেলে দেওয়া চুল, ভাঙা মুঠোফোন এবং ছোট ছোট প্লাস্টিকের খেলনা ফেরি করত। ঈদের ছুটিতে সবাই একসঙ্গে বাড়ি আসছিল। বাসে জনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা বেশি ভাড়া চাওয়ায় সবাই ট্রাকে উঠেছিল।

একই ইউনিয়নের ৯ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভারশোঁ ইউনিয়নসহ পুরো মান্দা উপজেলায় এখন শোকের মাতম চলছে। নিহতদের পরিবারে চলছে আহাজারি। উপার্জনক্ষম সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা ও স্বজনেরা। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।