তৃতীয় ভাষা শিক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসির সিরিজ মতবিনিময়

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৮ এএম আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ পিএম ৩২ বার পঠিত
তৃতীয় ভাষা শিক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসির সিরিজ মতবিনিময়
তৃতীয় ভাষা শিক্ষা নিয়ে উপাচার্যদের সাথে মতবিনিময় সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদুল ইসলাম | ছবি: দৈনিক রাজশাহী

তৃতীয় ভাষা শিক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসির সিরিজ মতবিনিময়

দৈনিক রাজশাহী
৩০ সেপ্টে ২০২৬

তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে সিরিজ মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ শিক্ষা চালুর লক্ষ্যে ভাষা কেন্দ্র স্থাপন, প্রয়োজনীয় জনবল, অঞ্চলভিত্তিক ভাষার চাহিদা ও কোর্সের ধরন নির্ধারণসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার ইউজিসিতে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় রাবির উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলামসহ অন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অংশ নেন। ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য প্রফেসর আব্দুল্লাহ-আল-মামুন মতবিনিময়ে সভাপতিত্ব করেন।

দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাথেও পর্যায়ক্রমে একই বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভাষা কেন্দ্র স্থাপন, বিদ্যমান সক্ষমতা ও রিসোর্স ম্যাপিংয়ের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় জনবলের চাহিদা উল্লেখ করে দ্রুত ইউজিসিকে অবহিত করতে বলা হয়।

তৃতীয় ভাষা নির্বাচনে অঞ্চলভিত্তিক চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ও আঞ্চলিক চাহিদা বিবেচনায় বিএমইটির তথ্য যাচাই করে রিসোর্স ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ভাষা নির্বাচন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

তৃতীয় ভাষা নন-ক্রেডিট কোর্সের পাশাপাশি বিভাগভিত্তিক অন্তত একটি ভাষা ক্রেডিট কোর্স চালুর প্রস্তাব করা হয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, বেকারদের জন্য ছয় মাস মেয়াদি ভাষা কোর্স ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে ভাষাশিক্ষক তৈরির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

সভায় ইউজিসি সদস্য প্রফেসর আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে এবং মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কোর্সের সুযোগ, কারিকুলামে শিল্পখাতের সম্পৃক্ততা, যৌথ গবেষণা এবং গবেষণার ফল বাণিজ্যিকীকরণে তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়। শিল্পবাজারের চাহিদা অনুযায়ী এআই, রোবটিকস, সাইবার সিকিউরিটি ও ডেটা সায়েন্সের মতো বিষয়ে নতুন বিভাগ বা অন্য একাডেমিক কার্যক্রম চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রফেসর আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল অফিস খোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘স্টাডি ইন বাংলাদেশ’ পোর্টাল চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে পোর্টালে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আবাসন, বৃত্তি ও ইন্টারন্যাশনাল অফিসসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে আরবী, ফারসি, উর্দু ও সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে পঠন-পাঠন ছাড়াও ইনস্টিটিউট অব ইংলিশ এন্ড আদার ল্যাঙ্গুয়েজেজে জার্মান, জাপানি, চীনা, কোরিয়ান, আরবী ভাষা শিক্ষার শিক্ষার ব্যবস্থা আছে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।