পুঠিয়ায় গণধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা : গ্রেপ্তার ১

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ০৬:২১ পিএম ২৪ বার পঠিত
পুঠিয়ায় গণধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা : গ্রেপ্তার ১

পুঠিয়ায় গণধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা : গ্রেপ্তার ১

দৈনিক রাজশাহী
০৬ জুন ২০২৬

রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক নারীকে (৪৬) গণধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভিকটিম নারী নিজে বাদী হয়ে পুঠিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ মো. মুরাদ (৩২) নামের একজন বিএনপির কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি উপজেলার ধোপাপাড়া কারিগরপাড়ার বাসিন্দা।

মামলার এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিরা হলেনÑ পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ (৩৫), জিউপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম (৪০), একই এলাকার বিএনপি কর্মী মো. বুলবুল (২৮) ও যুবদল কর্মী মো. সুমন (৩২)। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১২-১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে  আসামিরা মামলাটি মিথ্যা দাবি করছেন। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গায়। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুঠিয়া উপজেলায় ভাড়া বাসায় থাকছেন। ভিকটিমের দুই ছেলের একজন ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। অন্যজন মায়ের সঙ্গে থাকেন। 

এদিকে মামলার পর শনিবার ভিকটিম ওই নারীর শারীরীক পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

এজাহারে ভিকটিম নারী দাবি করেন, ১ জুন ধোপাপাড়া কারিগরপাড়ায় তিনি একটি বাড়ি ভাড়া নেন এবং ৪ জুন সেই বাড়িতে ওঠেন। ওইদিন রাত ৯টার দিকে ১৬ বছরের এক কিশোরকে ওই নারীর বাড়ির সামনে দেখে আসামিরা তাকে ধরেন।

এরপর ওই নারীকে জড়িয়ে তাদের অনৈতিক কাজের অপবাদ দেন। ‎একপর্যায়ে আসামিরা বাড়িতে ঢুকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, ২২ হাজার টাকা মূল্যের রুপার নূপুর ও ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফোন লুট করে নেন। লুটপাটের পর আসামি সাইফুল ওই নারীকে বাড়িতেই ধর্ষণ করেন।

এরপর ফিরোজ তাঁকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে উজালপুর গ্রামের একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যান। সেখানে ফিরোজ ফোন করে আসামি মুরাদকে ডাকেন। রাত ১১টার দিকে মুরাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে মাঠের মধ্যে ধর্ষণ করেন। এরপর আসামি ফিরোজ তাঁকে মোটরসাইকেলে করে বাঁশবাড়ি বাজারে পৌঁছে দেন। পরে ভুক্তভোগী নারী সেখান থেকে ভ্যানে চড়ে নাটোরের নলডাঙ্গায় নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

এ বিষয়ে জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফিরোজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই নারীর বাড়িতে এক ছেলে অনৈতিক কাজ করতে গিয়েছিল। এলাকাবাসী তাঁদের ধরেছিল। তারপর সিদ্ধান্ত হয় যে, ওই রাতেই তাঁকে গ্রাম ছাড়তে হবে। তিনি তাঁকে মোটরসাইকেলে বাজার পর্যন্ত নিয়ে যান। এরপর ওই নারী নলডাঙ্গা চলে যান। এখানে লুটপাট ও ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনৈতিক কাজের জন্য গ্রামছাড়া করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ওই নারী মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।’

পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটি মিথ্যা নাকি সত্য, সে বিষয়ে মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি। এটা তদন্ত শেষে বলা যাবে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিম নারীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’  

 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।