বড়াল নদী খনন : প্রতিশ্রুতির গন্ডি না পেরোতেই জনমনে হতাশা

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম আপডেট : ০১ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম ৩২ বার পঠিত
বড়াল নদী খনন : প্রতিশ্রুতির গন্ডি না পেরোতেই জনমনে হতাশা
চারঘাট উপজেলার পদ্মার তীরে বড়ালের উৎসমূখের বর্তমান চিত্র | ছবি: সংগৃহীত

বড়াল নদী খনন : প্রতিশ্রুতির গন্ডি না পেরোতেই জনমনে হতাশা

দৈনিক রাজশাহী
০১ জুন ২০২৬

রাজশাহীর চারঘাট ও ভাটির জনপদের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত বড়াল নদী। নদীটি খনন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে কেবলমাত্র প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে। নদীটি পুনরুদ্ধারে অন্তবর্তীকালীন সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রাণালয়ের সাবেক উপদেষ্টাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বার বার ঘোষণা এসেছে। তবে বাস্তব অগ্রগতি না থাকায় দিন দিন পরিবেশ ও কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছেই। 

বড়াল নদী তীরবর্তী এলাকায় একাধিক কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, একসময় বড়াল নদী ছিল এই এলাকার কৃষি, মৎস্য আহরণ এবং নৌ যোগাযোগের প্রধান ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা, পলি জমে নদী ভরাট হওয়া এবং নিয়মিত খননের অভাবে নদীটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। 

বর্ষা মৌসুমে জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় একদিকে যেমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিচ্ছে পানির তীব্র সংকট। শুষ্ক মৌসুমে বড়ালে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে পানি দিতে অসুবিধা হয় কৃষকদের। তাই যত দ্রুত সম্ভব বড়াল নদীটি খনন করা প্রয়োজন বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান। 

সরেজমিনে চারঘাট উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের ঝিকরা গ্রামের কৃষক রফিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেচের জন্য নদীর পানির উপর নির্ভরতা কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর চাপ বাড়ায় টিউবওয়েলের ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশেরগত ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে ধান ও সবজি চাষে পানি সংকট এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

পরিবেশবিদরা মনে করেন, বড়াল নদী খনন না হওয়ায় এলাকার জীববৈচিত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীভিত্তিক ইকোসিষ্টেম যেমন- গাছপালা, মাছ ইত্যাদির প্রজনন ব্যবস্থা কমেছে। পাখির বিচরণও কমেছে। একই সঙ্গে নদী তীরবর্তী সবুজায়ন হ্রাস পাচ্ছে। 

স্থানীয় জনগন ও সামাজিক সংগঠনগুলো একাধিকবার বড়াল নদী খননের দাবি জানালেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ধীরগতির কারণে সাধারন মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। তারা দ্রুত এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন। যাতে করে বড়াল নদীর পুনরায় তার প্রাকৃতিক প্রবাহ ফিরে পায়। 

বড়াল রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান জানান, চারঘাটের নিকট পদ্মা নদী থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘা বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১০টি নদী রয়েছে। পদ্মা থেকে বাঘাবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২২০ কিলোমিটার নদী পথের মধ্যে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। চারঘাট ও নাটোরে বড়াল নদীর উপর তৈরি হয়েছে দুইটি স্লুইসগেট। এগুলো অপসারণ করা হলেই নদী আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। এছাড়া সমন্বিত পরিকল্পনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষন এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত না করলে কেবল খনন কার্যক্রম দিয়ে নদীর টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। 

এদিকে চারঘাট প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ময়েন উদ্দিন জানান, সরকারি উদ্যোগগুলো কেবল নথিপত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব মাঠ পর্যায়ে দৃশ্যমান হবে। যাতে বড়াল নদী আবারও এই অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও জীবিকার প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশাবাদ। 

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিম মুঠোফোনে জানান, ইতোমধ্যে বড়াল নদী খননের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষে ৫২৮ কোটি টাকার একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে প্রথম ফেইজে বড়ালের ৪৮.৫ কিলোমিটার, নারোদ নদের ৪৩ কিলোমিটার এবং মুসা খা নদীর ৬ কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করা হবে। 

 

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।