পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যাযয়ের জন্মশতবর্ষ পালন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের আয়োজনে

নিজস্ব প্রতিবেদক: পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যাযয়ের জন্মশতবর্ষ পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ এই শতবর্ষী মহান সংগীতগুরুর জন্মশতবর্ষ পালন করেছে। সংগীত বিভাগের প্রতিনিধির মাধ্যমে মানপত্র, উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে সংগীতাচার্যকে বরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।

আয়োজনটি সংগীত বিভাগের হলরুমে অনুষ্ঠিত হলেও অনুষ্ঠানে অমিয়রঞ্জন মহাশয় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত থাকেন পুরো সময় ধরেই। অনুষ্ঠানে পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তৃতা রাখেন। ওপার বাংলার প্রখ্যাত সংগীত শিক্ষক অধ্যাপক ড. কাবেরী কর অনুষ্ঠানে তাঁর অনুভূতি প্রকাশক বক্তব্য রাখেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সনজিদা মইদ বিভাগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আয়োজনের শুরুতেই ৷ অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষার্থীরা সমবেত রাগ সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর বিভাগের প্রবীণ শিক্ষক প্রফেসর ড. অসিত রায় এবং ড. পদ্মিনী দে সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে সংগীতাচার্যকে শ্রদ্ধা জানান। আয়োজনের আহ্বায়ক আলমগীর পারভেজের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গীতজগতের এক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। বিষ্ণুপুর ঘরানার গৌরবময় সংগীত পরিবারের কৃতি সন্তান তিনি। তাঁর জন্ম কলকাতায়, ১৯২৭সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি। সংগীতজ্ঞ সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পিতা। হিন্দুস্থানি সংগীত জগতে সুগায়করূপে অমিয়রঞ্জন মহাশয়ের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ধ্রুপদী সঙ্গীতের চর্চা ও প্রচারে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাঁর গভীর সংগীতজ্ঞান, মেধাবী শিক্ষাদান এবং অনন্য পরিবেশনাশৈলী তাঁকে সংগীত জগতের এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। সৃজনশীল সংগীতে তিনি যেমন অনুপ্রাণিত, তেমন সঙ্গীতের তত্ত্বচিন্তায় তাঁর আগ্রহ অপরিসীম। তাই সঙ্গীতসাধনার ফাঁকেই তত্ত্বানুশীলনে মগ্ন হয়েছেন। সঙ্গীতের সৌন্দর্য বিষয়ে তিনি ১৯৬৮ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট উপাধি লাভ করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৪৮ সালের বাঙলা ভাষা ও সাহিত্যের এম. এ.। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সুদীর্ঘ কাল সঙ্গীত বিভাগে তিনি সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৯২ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। শতবর্ষে জীবনকে সংগীতময় করে রাখা এমন সংগীতগুণী ভারতবর্ষে বিরল। পরিমিত ও সংযত খাদ্যাভ্যাস, সংগীত চর্চা, শরীর চর্চা, সংগীত শিক্ষাদান ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে সুশৃঙ্খল জীবন যাপন সংগীতাচার্যকে দীর্ঘ ও সুস্থ কর্মময় জীবন দান করেছে ৷ তিনি প্রতিনিয়তই তাঁর দীর্ঘ জীবনের সংগীতের অভিজ্ঞতা বিলিয়ে দিচ্ছেন যার ফলে ভারতীয় উচ্চাংগ সংগীত আরোও ঋদ্ধ হয়ে উঠছে৷ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকতা ছাড়াও দেশ বিদেশে তিনি অসংখ্য শিষ্য শিষ্যা তৈরি করেছেন, রচনা করেছেন সংগীতের নানা বিষয়ে গবেষণা গ্রন্থ। বাংলাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রসারে তাঁর ভূমিকা অসামান্য। শাস্ত্রীয় সংগীত বিষয়ে উচ্চশিক্ষার প্রসারে বাংলাদেশে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তাঁদের সিংহভাগই অমিয়রঞ্জন মহাশয়ের শিষ্য শিষ্যা।





