তানোরে টানাবর্ষণে ডুবছে বিলের পাঁকা আমন ধান : ভেসে গেছে শত শত পুকুরের মাছ, হতাশায় কৃষক
বৃষ্টিতে রেললাইনে হাঁটু পানি : আড়াই ২ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে বনলতা এক্সপ্রেস

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শুক্রবার রাতে এবং আগের দিনের টানা ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি গ্রামীণ রাস্তা ও পুকুর খালে উপচে রাজশাহী তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া, কামারগাঁ, পাঁচন্দর ও কলমা ইউনিয়ন এবং তানোর পৌর এলাকার বিলের রোপা আমন পাঁকা ধান ডুবে গেছে। অপরদিকে শত শত পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় গাছ পালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়ার পাশাপাশি উপড়ে পড়েছে খুটিফ ফলে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকা। অসময়ে ফসলের এমন ক্ষয়ক্ষতির ফলে হতাশায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকদের।
স্থানীয়রা জানান, সোনালী রঙ ধারণ করা মাঠজুড়ে রোপা আমন ধান টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় জমে থাকা পানিতে নুয়ে পড়েছে। আবার কোথাও কোথাও পাকা আমন ধান ডুবে গেছে। তালন্দ ইউনিয়নের কালনা গ্রামের কৃষক হান্নান, তোফাজ্জল, বাদল, হাসান আলী বলেন, দু’দিনের ঝড়ো হাওয়া ও ভারি বৃষ্টির পানিতে তাদের সকলের মাঠের পাকা ধান পানিতে লুটিয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাসন করা নাহলে ধানের চরম ক্ষতি হবে।
তানোর পৌর এলাকার ধানতৈর গ্রামের নিশান বলেন, আমন ধানের জমিতে যে পরিমাণ পানি ঢুকেছে, তাতে দ্রুত নিষ্কাশন নাহলে ধানে গাছ গজিয়ে উঠবে। এতে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, উজান থেকে বিলের জমিতে নামছে পানির স্রোত। যেদিকেই চোখ যায়, সেদিকেই থইথই করছে পানি। প্রতিটি ব্রিজের মুখ দিয়ে পানি নামতেই আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার রোপা আমন রোপণের সময় প্রচুর বৃষ্টি হয়েছিল। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র আশ্বিন মাসেও এত বৃষ্টি হয়েছে যে, কৃষকদের দুই/তিনবার রোপা আমন ধান রোপন করতে হয়েছে। যা অন্যকোন বছর দেখা যায়নি। এখনো মাঝেমধ্যে অব্যাহত রয়েছে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা বলেন, শনিবার সকালে বৃষ্টি থামলেও আকাশে প্রচণ্ড মেঘ। হয়তো রাত থেকেই আবার শুরু হবে বৃষ্টি। ইতোমধ্যে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, সারা বছরে, এত পরিমাণ বৃষ্টি হয়নি। নিচের জমিগুলো ডুবে গেছে। রোপা আমনের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। শুধু রোপা আমনের ক্ষতি নয়, শত শত পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। টানা বৃষ্টির কারণে সবজিও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, কামারগাঁ ব্লকের কামারগাঁয় ৩০ হেক্টর, মাদারিপুরে ৮ হেক্টর, ছাঐড়ে ১৪ হেক্টর, কৃষ্ণপুরে ৫ হেক্টর ও পাঁচন্দর ব্লকের মোহাম্মদপুরে ৭ হেক্টর, চাঁদপুরে ১০ হেক্টর এবং চান্দুড়িয়া ব্লকের চান্দুড়িয়ায় ১৫ হেক্টর, সিলিমপুরে ৫ হেক্টর; তানোর পৌরসভার ১১০ হেক্টর মিলে ২০৩ হেক্টর রোপা আমন ধান ইতোমধ্যে ডুবেছে। এর মধ্যে আংশিক ১৫৭ হেক্টর এবং পুরোপুরি ডুবেছে ৪৬ হেক্টর জমির রোপা আমন। তবে কলমা ইউপির আজিজপুর, চন্দনকোঠা, কুজিশহর সহ ওই ইউপির ধান ডুবার কোন তথ্য দিতে পারে নি কৃষি অফিস।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, উপজেলায় রোপা আমনের চাষাবাদ হয়েছে ২২ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে। তবে ধান ডুবেছে পুরোপুরি ভাবে ৪৬ হেক্টর এবং আংশিক ডুবছে ১৫৭ হেক্টর জমি। অবশ্য বৃষ্টির থামলে সঠিক হিসেব পাওয়া যাবে। যেসব জমি ডুবেছে ও পানি ঢুকেছে সেসব জমি থেকে তিন চার দিনের মধ্যে পানি বের হলে ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। কিন্তু এর চেয়ে বেশি সময় পার হলে ধান নষ্ট হবে।
বৃষ্টিতে রেললাইনে হাঁটু পানি : আড়াই ২ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে বনলতা এক্সপ্রেস
রাতভর বৃষ্টির কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার রেললাইনে হাটু পানি জমেছে। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী হয়ে ঢাকাগামী আন্তঃনগর বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আড়াই ২ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে। এতে ট্রেনটির যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন। শনিবার (১ নভেম্বর) সিডিউল অনুযায়ী ট্রেনটি সকাল ৬টায় রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু রেললাইনে একহাটু পানি জমার কারণে ট্রেনটি সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশন ছাড়ে।
এদিকে ট্রেনটি রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে সকাল ৭টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে সকাল সাড়ে ৯টায়। যাত্রী আব্দুল হামিদ বলেন, ঢাকায় বিকেল ৩টার দিকে একটি ব্যাংকের চাকরি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি। কিন্ত আজকে প্রায় সোয়া ২ ঘণ্টা মতো ট্রেন লেট হয়েছে। এর ফলে আমরা সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তারা যেন দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক করেন।
আরেক যাত্রী আবু সাঈদ বলেন, মায়ের চিকিৎসা করাতে ঢাকায় যাচ্ছি। কিন্ত রেললাইনে বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে ট্রেন লেট হয়েছে। একদিকে রাতভর বৃষ্টি, অপরদিকে ট্রেন লেটের ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার শহিদুল আলম বলেন, শনিবার সারারাত ধরে বৃষ্টি হয়েছে। এতে স্টেশনের রেললাইনে হাঁটু পানি জমে যায়। এমনকি রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের বিভিন্নস্থানে পানি জমে। তাই বনলতা এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর ছেড়ে যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তোফিকুল ইসলাম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় কয়েকটি স্থানে ড্রেনের কাজ চলমান। হঠাৎ বৃষ্টিতে কিছুটা জলাবদ্ধতা হয়েছে। শহরের পানি মেশিন দিয়ে নিষ্কাশন করা হয়েছে। ড্রেনের কাজ শেষে জলাবদ্ধতার নিরসন হবে।





