গরিব মানুষের টাকায় পড়াশোনা করে দেশের জন্যই কাজ করতে হবে: ভূমি মন্ত্রী মিনু
গরিব মানুষের টাকায় পড়াশোনা করে দেশের জন্যই কাজ করতে হবে: ভূমি মন্ত্রী মিনু
দেশের মেধাবীরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিদেশে গিয়ে আর দেশে ফিরে না আসায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, দেশের গরিব মানুষের অর্থে শিক্ষিত হয়ে বিদেশে স্থায়ী হওয়া নয়, বরং জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে দেশের কল্যাণে কাজ করাই হওয়া উচিত।
রোববার সকালে রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে বিভাগীয় পর্যায়ে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা, দশম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং দশম বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা বিদেশে যাবেন, শিখবেন, নতুন কিছু আবিষ্কার করবেন। কিন্তু সবার আগে বাংলাদেশ। আপনারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় বিজ্ঞানী হোন—দেশের জন্য ফিরে আসবেন। দেশের গরিব মানুষের অর্থে পড়াশোনা করে দেশের জন্যই কাজ করতে হবে।”
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো মেধাবী বিজ্ঞানীদের আকৃষ্ট করতে নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ঘঅঝঅ পৃথিবীর খ্যাতিমান রসায়নবিদ, পদার্থবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নিয়ে কাজ করছে। এসব বিজ্ঞানী সেখানে স্থায়ী হয়ে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞানে সরকারি সহযোগিতা এখনও অপ্রতুল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “একসময় বিজ্ঞানচর্চায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে ছিল। কিন্তু বর্তমানে উন্নত দেশগুলো বিজ্ঞানে ব্যাপক বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কারণে আমাদের চেয়ে ১০ থেকে ১২ গুণ এগিয়ে গেছে। তারা অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধ হয়েছে। আগামী বাজেটে বিজ্ঞান খাতে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে, যাতে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে।”
খাদ্য উৎপাদনে বিজ্ঞানের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরি ধান বাংলাদেশে প্রথম নিয়ে আসেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে দেশীয় বিজ্ঞানীরা সেই ধানের আরও উন্নয়ন ঘটিয়ে উৎপাদনে বিপ্লব এনেছেন। এর ফলে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম কুড়িয়েছে।
ওরস্যালাইনের উদ্ভাবনকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানীর আবিষ্কৃত ওরস্যালাইন সারা বিশ্বে অসংখ্য প্রাণ বাঁচাচ্ছে। একসময় কলেরায় হাজার হাজার শিশু মারা যেত। এখন অল্প খরচের এই স্যালাইন মানুষের জীবন রক্ষা করছে।”
বিশ্বখ্যাত স্থপতি ফজলুর রহমান খান-এর প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের সুউচ্চ উইলিস টাওয়ারের নকশাকার ছিলেন বাংলাদেশের এই কৃতী স্থপতি। তিনি বলেন, “সহযোগিতা সীমিত হলেও বাংলাদেশ জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী কলেজ থেকেই শিক্ষা অর্জন করেছিলেন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া। আর বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে।”
তিনি আরও বলেন, অবিভক্ত বাংলার সময় উদ্ভিদবিদ্যায় রাজশাহী কলেজ কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের চেয়েও সমৃদ্ধ ছিল। কলেজের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও গবেষণা অবকাঠামোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের খুদে বিজ্ঞানীদের মধ্যেও অসাধারণ প্রতিভা রয়েছে এবং তারাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এর আগে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। পরে তিনি বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, নগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আল মামুন, রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাছান এবং রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. ইব্রাহিম আলী।
স্বাগত বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মোহা. আছাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিভাগের বিভিন্ন কলেজের ৪৮টি দল বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়।