ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি: বড় পরিবর্তনের চিন্তা ইসি’র

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম আপডেট : ৩১ মে ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম ২২ বার পঠিত
ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি: বড় পরিবর্তনের চিন্তা ইসি’র

ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি: বড় পরিবর্তনের চিন্তা ইসি’র

দৈনিক রাজশাহী
৩১ মে ২০২৬

চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ, ইভিএম বাদ, পোস্টাল ভোট বাতিল, প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধি এবং দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয়ভাবে ভোট আয়োজনসহ একগুচ্ছ বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

গত ১৯ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বর্ষা মৌসুম শেষে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন -এই পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা সরকারের।

তবে সরকারের এই পরিকল্পনার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয় নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের শুরুতে নির্বাচন আয়োজনের দিকে ঝুঁকছে ইসি। কারণ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত দেশের অনেক এলাকায় বর্ষা পরিস্থিতি বিরাজ করে, যা ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সেপ্টেম্বরে এখনও বর্ষা থাকে। ওই সময়ে হাওরাঞ্চল বা উপকূলীয় এলাকায় নির্বাচন করা কঠিন। তাই নভেম্বরের আগে নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।”

তিনি আরও বলেন, কোন নির্বাচন আগে হবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইসির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সুষ্ঠু ও সংঘাতমুক্ত নির্বাচন আয়োজন।

এর আগে গত ২১ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৫০০ উপজেলা, ৬১ জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতে অনেক সহিংসতা হয়েছে। আমরা কোনও রক্তপাত চাই না। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া সংঘাতমুক্ত নির্বাচন সম্ভব নয়।”Politics

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ বাতিল, পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা বন্ধ, ইভিএম ব্যবহার না করা, দলীয় প্রতীক বাতিল, নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন আয়োজন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের দিকেও এগোচ্ছে কমিশন।

এ ছাড়া ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হতে না দেওয়া, নির্বাচনি জামানত ও ব্যয় বাড়ানো এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার থাকবে না। ইভিএম ব্যবহার করা হবে না, পোস্টাল ভোটও থাকছে না। এবারের নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হবে। ফলে দলীয় প্রতীক থাকবে না, সবাই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবে।”

তিনি জানান, প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তবে কতটা বাড়বে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তার ঠেকানোর বিষয়েও ভাবছে কমিশন। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে এমপিদের বসার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

রহমানেল মাছউদ বলেন, “আরপিও অনুযায়ী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সরকারি সুবিধাভোগীরা কোনও প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণা চালাতে পারেন না। সংসদ সদস্যরাও এই বিধানের আওতায় পড়েন।”

তিনি আরও জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা আপাতত নেই। ধাপে ধাপে ভোট হওয়ায় পুলিশ, আনসার ও বিজিবির সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোথাও পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে পরে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালার কাজ জুন মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম বলেন, “বাংলাদেশে দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালে এটিকে দলীয় করা হয়। এখন আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি বলেন, ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। কারণ এতে ভোটের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এই শর্ত বাতিল হলে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে জামানত বাড়ানো কিছুটা নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা রাখতে পারে।

পোস্টারবিহীন নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনে যেহেতু পোস্টার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যুক্তিযুক্ত।”

সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার বিষয়েও তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়ায় পরিকল্পনা সঠিক হলে সেনাবাহিনী ছাড়াই ভোট আয়োজন সম্ভব।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।