এবারও সিণ্ডিকেটের কাছে ধরাশায়ী মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা!

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬, ০৩:০১ এএম আপডেট : ৩১ মে ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম ৪২ বার পঠিত
এবারও সিণ্ডিকেটের কাছে ধরাশায়ী মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা!

এবারও সিণ্ডিকেটের কাছে ধরাশায়ী মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা!

দৈনিক রাজশাহী
৩১ মে ২০২৬

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার মোকাম নাটোরের আড়তে আসছে কোরবানির চামড়া। তবে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সংগ্রহ মূল্যের চেয়েও কম দামে চামড়া বিক্রিতে বাধ্য হতে হচ্ছে তাঁদের। তবে আড়তের ব্যবসায়ীদের দাবি, লাম্পিস্কিনে আক্রান্ত, লবণজাত ছাড়া পশুর চামড়া আনায় দাম পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিটি ছাগলের ভালো চামড়া ২০ থেকে ৪০ টাকা ও গরুর চামড়া ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অধিকাংশ মৌসুমি ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে কম দামে চামড়া কিনছেন মোকামের ব্যবসায়ীরা।

গতকাল শনিবার সকালে নাটোর শহরের চকবৈদ্যনাথ চামড়া মোকাম ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়। নাটোরে এবার প্রায় ১২ লাখ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদের দিন (বৃহস্পতিবার) কোরবানির পর বিকেলে েআড়তে চামড়া আসা শুরু হয়। নাটোর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আসা কাঁচা চামড়া কেনাবেচা হলেও দ্বিতীয় দিন শুক্রবার থেকে রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গরু-ছাগলের চামড়া আসে। আকারভেদে লবণযুক্ত ভালো চামড়া ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং লবণ ছাড়া ভালো চামড়া ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় কেনাবেচা হয়। তবে অধিকাংশ মৌসুমি ব্যবসায়ী বিক্রি করতে না পেরে চামড়া রেখে ফিরে যান।

রাজশাহীর মোহনপুরের মৌসুমি ব্যবসায়ী আনসার আলী বলেন, ‘২০টি খাসির চামড়া নিয়ে এসেছিলাম। একটু ভালো দাম পেতে। চামড়াগুলো রেখে ২০০ টাকা ধরিয়ে দিয়েছে ব্যাপারী। অথচ তার গাড়ি ভাড়ায় খরচ হয়েছে ১ হাজার টাকা।’

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারী মো. মামুন বলেন, ‘২০টি চামড়ার মধ্যে ১২টি পচে গেছে। ৮টার দাম ২০০ টাকা দিয়েছি।’

নাটোরের মদিনাতুল উলুম কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধি হাফেজ মো. কাউসার আলী বলেন, ‘৩৫টি গরু ও ২০০ ছাগলের চামড়া ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আড়তদারি ও পরিবহন খরচ বাদে ২৬ হাজার ৫০০ টাকা টিকেছে। চামড়ার দাম সারা বছর থাকলেও কোরবানির সময় দাম কমায় সিন্ডিকেট।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মৌসুমি ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, ‘শুক্রবার এসে দেখি অনেক আড়ত বন্ধ। যেসব আড়ত খোলা, তারা কম দাম দিতে চাচ্ছে। এসব দামে বিক্রি করলে কেনা দামই উঠবে না।’

তবে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একমত নন আড়তদারেরা। আড়তদার রকিব উদ্দিন বলেন, ‘চামড়ার দাম কম দেওয়া হচ্ছে, এমন দাবি সঠিক নয়। একটা ভালো চামড়ার জন্য ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিচ্ছি।

আড়তদার নাসিম খান বলেন, ‘আড়তে ফড়িয়াদের আনা সব চামড়া এক নয়। লবণজাত ও লবণহীন চামড়ার দামও এক নয়। লবণ কম দেওয়ায় অনেক চামড়ার এমন অবস্থা, যা বেশিদিন রাখা যাবে না। এই চামড়া বেশি সময় সংরক্ষণ করা যাবে না।’

চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, ‘লাম্পিসহ ত্রুটিপূর্ণ চামড়ার ব্যাপারে আমরা আগেই ফড়িয়া ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছি। যাঁরা ত্রুটিপূর্ণ চামড়া কিনেছেন, তাঁরা দাম পাবেন না, এটাই স্বাভাবিক। চামড়া কেনার সময় বিষয়টি খেলায় রাখা উচিত ছিল। ভালো চামড়ার উপযুক্ত দাম দিতে কোনো কার্পণ্য নেই। কোরবানির আগে-পরে বাজার যাচাই করা জরুরি।’

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।