রাজশাহীতে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম আপডেট : ২৩ মে ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম ২৫ বার পঠিত
রাজশাহীতে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা হচ্ছে

রাজশাহীতে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা হচ্ছে

দৈনিক রাজশাহী
২৩ মে ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও আশপাশের সীমান্ত এলাকা মাদক, হুন্ডি ও সোনা পাচারের আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, দেশে যে পরিমাণ মাদকদ্রব্য পাচার হয়ে আসে, তার সিংহভাগই আসে গোদাগাড়ী ও পার্শ্ববর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ও চরবাগডাঙ্গা সীমান্তপথে। কেবল সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলেই পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝেমধ্যে বড় চালান আটক করতে সক্ষম হয়। 

প্রতিটি অভিযানে মাদকসহ আটক হয় শুধু বাহকরা। অথচ এসব মাদকের প্রকৃত মালিকরা থেকে যান লোকচক্ষুর আড়ালে। এভাবেই সীমান্তের মাদক কারবারিরা দিনের পর দিন আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন। তবে নতুন করে মাদক কারবারিদের তালিকা করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। 

এছাড়া মাদকের কারবার করে শূন্য থেকে কোটি টাকার মালিক হওয়াদের সম্পদ চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাদের সহযোগিতা করছে সীমান্ত এলাকার থানাপুলিশ। ইতোমধ্যে গোদাগাড়ী রেলগেটের মাদক কারবারি শহীদুল, পৌর এলাকার মাদারপুর গ্রামের তারেক, বাঘার শরীফ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ফাটাপাড়া গ্রামের জুয়েলের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হয়েছে। এছাড়া গোদাগাড়ী রেলগেট এলাকার আব্দুল্লাহ নামের এক মাদক কারবারির বাড়ি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, গত দুই বছর বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে মাদকবিরোধী অভিযান অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে মাদক কারবারি এবং তাদের সহযোগীদের সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের আভিযানিক দল। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেনি। দায়িত্ব রক্ষায় শুধু থানায় সাধারণ ডায়েরি করে নিজেদের কর্তব্য শেষ করা হয়েছে। ফলে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সীমান্তের মাদক কারবারিদের সিন্ডিকেট।

জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল রানা বলেন, আমাদের এলাকাটি মাদকপ্রবণ হিসাবে চিহ্নিত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাদক কারবারিদের তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছে। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য সরেজমিন যেতে হচ্ছে। আগের তালিকায় নাম থাকা অনেকেই মারা গেছেন। কেউ মাদক কারবার ছেড়ে অন্য পেশায় গেছেন। এরপরও আমরা চেষ্টা করছি প্রকৃত মাদক কারবারিদের একটি নির্ভুল তালিকা করতে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অভিযান ও অপরাধ) এটিএম মাইনুল ইসলাম বলেন, মাদক কারবারিদের তালিকা হালনাগাদ করা নিয়মিত প্রক্রিয়ারই অংশ। হালনাগাদ কার্যক্রম চলমান থাকবে। পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। কেউ অভিযোগ করলে সেটাও আমরা খতিয়ে দেখছি। পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকের বিষয়ে শূন্যসহিষ্ণুতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অটুট থাকবে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।