ভূয়া রশিদে সাত গ্রাহকের জীবন বীমার ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্ত ম্যানেজারের গা-ঢাকা

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ০৪:০১ পিএম ২৬ বার পঠিত
ভূয়া রশিদে সাত গ্রাহকের জীবন বীমার ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্ত ম্যানেজারের গা-ঢাকা

ভূয়া রশিদে সাত গ্রাহকের জীবন বীমার ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্ত ম্যানেজারের গা-ঢাকা

দৈনিক রাজশাহী
২১ মে ২০২৬

রাজশাহীতে জীবন বীমা কর্পোরেশনের একজন উন্নয়ন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে সাতজন গ্রাহকের প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোকছেদুল হক আত্মগোপন করেছেন। ভুক্তভোগীরা রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের রাজপাড়া থানা এবং জীবন বীমা কর্পোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী আঞ্চলিক জীভন বীমা অফিসের সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী আরও বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নিয়ে প্রতিবাদ জানান। তারা জীবন বীমার প্রতারক উন্নয়ন ম্যানেজার মোকছেদুল হককে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের টাকা ফেরতের দাবি জানান।  

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজশাহী রিজিওনাল অফিসের উন্নয়ন ম্যানেজার মো. মোকছেদুল হকের মাধ্যমে সাতজন গ্রাহক পেনশন বীমা চালু করেন। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করলেও তা অফিসে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন এবং গ্রাহকদের ভূয়া রশিদ প্রদান করেন। দীর্ঘদিন পর গ্রাহকরা জীবন বীমা কর্পোরেশনের অফিসে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, তাদের জমাকৃত অর্থের কোনো হিসাব অফিসে নেই। এরপরই প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পায়।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, তুনশ্রী প্রামাণিকের ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৮ টাকা, আনন্দ কুমার প্রামাণিকের ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫২০ টাকা, প্রতিমা নন্দীর ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫২০ টাকা, অসীম কুমার দাসের ৪ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ টাকা, মেহেদী হাসানের ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩০০ টাকা, আশরাফুল ইসলামের ৪ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৬ টাকা এবং মো. মনিরুজ্জামানের ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৮ টাকাসহ মোট ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৫২২ টাকা অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনা জানাজানির পর তিনি বিভিন্নভাবে আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী অসীম কুমার দাস বলেন, তারা ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে জীবন বীমায় টাকা জমা রেখেছিলেন। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতারণার কারণে তাদের অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং টাকা ফেরতের দাবি জানান।

অন্য গ্রাহক আনন্দ কুমার প্রামাণিক বলেন, একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এভাবে প্রতারণা করবেন- এটি তারা কল্পনাও করেননি। দ্রুত অর্থ ফেরতের দাবি জানান তিনি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্ত ম্যানেজার ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে এক মাসের মধ্যে আত্মসাত করা অর্থ ফেরত দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়। তবে দুই মাস পার হলেও এখনো কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি।

এ বিষয়ে রাজশাহী জীবন বীমা কর্পোরেশনের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘অভিযুক্ত কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে গ্রাহকদের সঙ্গে লেনদেন করেছেন এবং অফিসে টাকা জমা দেননি। এটি তিনি লিখিতভাবে স্বীকারও করেছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রধান কার্যালয়ে জানানো হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

তিনি আরও জানান, ‘‘ম্যানেজার মোকছেদুল হক চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। অসুস্থতার কথা বলে তিনি অনুপস্থিত থাকলেও পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।’’

মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘এ ঘটনায় জীবন বীমা কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশি সহায়তায় তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।’’

আরও ছবি

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।