বাগমারায় পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার দুদিন পরেই হামলার শিকার দুই আ’লীগ নেতা

বাঘা প্রতিনিধি:

বাগমারায় পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার দুদিন পরেই হামলার শিকার হতে হয়েছে আ’লীগের দুই নেতাকে। থানায় এসে হামলার আশংকার কথা জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের দুই নেতা। নিরাপত্তা চেয়ে তাঁরা থানায় সাধারণ ডাইরীও করতে চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ বিষয়টি আমলে নেয়নি। পরে তাঁরা স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে একই আশংকার কথা জানান।

 

তার দুদিন পর তাঁদের সেই আশংকায় ঠিক হলো। প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এঁরা হলেন রাজশাহীর বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জাহেদুর রহমান (৫৩) ও কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি আবদুর রাজ্জাক ওরফে স্বপন (৪০)। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আওয়ামী লীগের নেতা জাহেদুল ইসলাম জানান, গত ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বাগমারার ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে তিনি গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস সালামের পক্ষে কাজ করেন। ওই প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতিও ছিলেন তিনি। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। নির্বাচনে আলমগীর সরকার বিজয়ী হন। তাঁর বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাচনের পর তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকী দিয়ে আসছিলেন। এই হামলার আশংকার কথা জানানোর জন্য গত বুধবার বিকেলে তিনি ও কৃষকলীগের নেতা স্বপন থানায় আসেন। থানার ওসিকে নিজেদের আশংকার কথা জানান এবং সাধারণ ডাইরী করতে চান। তবে ওসি তাঁদের আশংকাকে আমলে না নিয়ে তাঁদের ফেরত দেন। তাঁরা স্থানীয় সাংসদকেও মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়েছিলেন বলে জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতরা জানান, গত শুক্রবার রাতে জাহেদুল ইসলাম উপজেলার তাহেরপুর বাজারের পুরানো বাসস্ট্যা- এলাকায় অবস্থিত তাঁর ওষুধের দোকানে বসে ছিলেন। কৃষকলীগের নেতা আবদুর রাজ্জাকও ছিলেন সেখানে। রাত সাড়ে সাতটার দিকে সাত-জনের একদল দুবৃর্ত্ত তাঁদের ঘিরে ফেলে। এসময় তাঁদের লক্ষ করে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। অস্ত্রধারীরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করে ফেলে যায়।
পরে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেওয়া হলে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহতরা জানান, হামলাকারীদের কয়েকজনকে চিনতে পেরেছেন। পুলিশকে তাঁদের নাম বলেছেন। পুলিশ আগে তৎপর হলে তাঁরা হামলার শিকার হতেন না বলে জানান।

বাগমারা থানার ওসি ওসি সেলিম হোসেন সিল্কসিটি নিউজকে জানান, দুই জনের ওপর হামলার ঘটনাটি শুনেছেন। হামলাকারীদের চিহ্নিত করা গেছে। তাঁদের ধরার চেষ্টা চলছে। তবে তিনি আহতদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁর কাছে ওই ধরণের অভিযোগ নিয়ে আসার কথা ঠিক নয়।

রাজশাহীর সহকারী পুলিশ সুপার (পুঠিয়া সার্কেল) আসলাম হোসেন জানান, তিনিও ঘটনা শুনেছেন। মামলা হলে পুলিশ ব্যবস্থা নিবে পুলিশ। তবেমামলা হলেও আজ শনিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো আসামীকে গ্রেফতার বা গ্রেফতারের কোনো অভিযান চালায়নি পুলিশ।

খবরটি শেয়ার করুন...
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Print this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি