কুষ্টিয়ায় আটক নারী জঙ্গি সুমাইয়া, বোর্ড স্ট্যান্ড করা ছাত্রী মাহমুদা!

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোর শহরতলীর চক আমহাটি নিভৃত গ্রামের দিন মুজুর মোস্তফা মিয়াজির মেধাবি কন্যা মাহমুদা খাতুন (জঙ্গি সংগঠনের দেয়া নাম সুমাইয়া)। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সাত নম্বর সে। দিনমজুর পিতার অভাবের সংসারে যেন আলোর প্রদীপ ছিলো মাহমুদা খাতুন ওরফে সুমাইয়া। নিজের মেধা খাটিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ -৫ পায় মাহমুদা। এইচএসসিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ১৪তম স্থানও অর্জন করে সে।

এরপর শুরু হয় মাহমুদার উচ্চ শিক্ষার যাত্রা। উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তিও হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে সে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলো। ইসলামী ব্যাংকের উপ-বৃত্তি আর টিউশনি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ার খরচ বহন করে আসছিল সে। সব কিছু ঠিকঠাক মতোই চলছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন দিন মজুর পিতার সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল।

কুষ্টিয়ার ভেরামারায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কাছে তিন নারী জঙ্গির মধ্যে আটক হয় নব্য জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড তালহার স্ত্রী হিসাবে পরিচিত সুমাইয়া। মেধাবি সুমাইয়া ওরফে মাহমুদা খাতুনের জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত হওয়ার খবর গণমাধ্যমসহ অন্যদের কাছে শুনে হতবাক ও বিস্মিত হয়ে পড়েছে তার পরিবার। এমন মেধাবি ছাত্রী জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে যেতে পারে তা কল্পনার বাহিরে ছিল মাহমুদার পরিবারের।

মাহমুদার ভাই হয়রত আলী জানান, চলতি বছরে ইসলামী ব্যাংকের উপবৃত্তির টাকা তুলে গত ২৬ জানুয়ারী ঢাকার উদ্দ্যেশে বের হয় বোন মাহমুদা। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তখন থেকেই পরিবারের সাথে তার আর যোগাযোগ হয়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে তার সন্ধান না পেয়ে গত ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি নাটোর সদর থানায় তার মা আম্বিয়া বেগম জিডি করেন।

মাহমুদার মা আম্বিায়া বেগম জানান, তাদের পরিবারে টেলিভিশন থাকলেও ডিসের সংযোগ না থাকায় মেয়ের খবর জানতোনা পরিবার। পাশাপাশি জেএমবির সেকেন্ট ইন কমান্ড তালহার সাথে মাহমুদার বিয়ের বিষয়টি তারা অবগত নন বলে জানান তিনি। তবে মাহমুদাকে বিপথে যারা নিয়ে গেছে তাদের বিচার চান তিনি।

খবরটি শেয়ার করুন...
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Print this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি